প্রতিনিধি ১৯ জুন ২০২৬ , ২:৩৭:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ
ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনে গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
শুক্রবার ঘোষিত ফলাফলে বার্নহ্যাম ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে পার্টির প্রার্থী, যিনি পেয়েছেন ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিজয়ের মাধ্যমে বার্নহ্যাম এখন লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বা তা শুরু করার সাংবিধানিক সুযোগ পেয়েছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ আরও বেড়ে গেল।
বিজয়ী হওয়ার পর দেওয়া ভাষণে বার্নহ্যাম এই ফলাফলকে ব্রিটিশ রাজনীতির জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জনগণের বার্তা শুনতে হবে, সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে এবং এবার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দ্বিতীয় কোনো সুযোগ থাকবে না।’
বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো জাতীয়করণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং গত চার দশকের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করে আসছেন। তিনি অতীতে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সুযোগ পেলে তিনি স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হতে চান এবং ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে চান।
এদিকে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার মাত্র দুই বছরের মাথায় জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কা খেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। একের পর এক নীতিগত ইউটার্ন, বিভিন্ন বিতর্ক এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তার জনপ্রিয়তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের বড় ধরনের ভরাডুবির পর দলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা তার নেতৃত্বের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন।
যদিও স্টারমার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তিনি কোনো নেতৃত্ব নির্বাচনের মুখোমুখি হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং দলকে বিভক্ত করতে পারে এমন নেতৃত্ব সংকট সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
তবে লেবারের এক সংসদ সদস্য ফলাফল ঘোষণার পর মন্তব্য করেন, ‘সব শেষ। বার্নহ্যামের এই জয় দেখিয়ে দিয়েছে যে স্টারমারের বিদায় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।’
জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম বর্তমানে লেবার পার্টির সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতাদের একজন। দলীয় সদস্যদের ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন হলে তার জয়ের সম্ভাবনাও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ শুরু করতে সংসদীয় দলের অন্তত ২০ শতাংশ বা ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। বার্নহ্যাম ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা হলে তিনি তাতে অংশ নেবেন।
অন্যদিকে স্টারমারের আরেক সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও সম্প্রতি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সময়সীমা ঘোষণা না করলে তিনি শিগগিরই নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি তুলবেন।’
যদি স্টারমার নেতৃত্ব হারান বা পদত্যাগ করেন, তাহলে গত এক দশকে ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেবেন। বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জনসেবার অবনতি এবং অবৈধ অভিবাসন সমস্যার সমাধান করতে না পারার কারণে ব্রিটিশ ভোটাররা ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।





















