প্রতিনিধি ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ৪:৫১:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ
ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে টিকে থাকার লড়াইয়ে খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থেকে ও ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে টাইগারদের ৮ উইকেটের বড় পরাজয়। ম্যাচের অনেকটা সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে, প্রথম ইনিংসে মিলেছিল লিডও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বস্তি পরিণত হলো চরম হতাশায়! ব্যাটিং বিপর্যয়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল টাইগাররা।
প্রথম ইনিংসে সামান্য লিড পেয়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ। নিজেদের মাঠে ব্যাটিং ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারতে হলো নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। ১৭০ রানের লক্ষ্য ক্যারিবীয়রা যেভাবে অনায়াসে পেরিয়েছে, তাতে ম্যাচের শেষ দিনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো আবহই তৈরি করতে পারেনি স্বাগতিকরা।
আজ শনিবার মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনেই জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা। জয়ের জন্য ১৭০ রান প্রয়োজন ছিল তাদের। ব্র্যান্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেলের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র ৩৫.১ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হারাতে হয়েছে মাত্র দুটি উইকেট।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছিল ২৭২ রান। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থামে ২৪৫ রানে। ফলে ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু সেই সুবিধা কাজে লাগানোর বদলে ব্যাটিংয়ে ধস নামে স্বাগতিক শিবিরে। মাত্র ১৪২ রানেই গুটিয়ে যায় দ্বিতীয় ইনিংস।
শনিবার সকালে আগের দিনের ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন জাকের আলি। এরপর একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের সংগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করেন নাঈম হাসান। শেষ চার ব্যাটারকে নিয়ে তিনি যোগ করেন গুরুত্বপূর্ণ ৬৩ রান। এর মধ্যে নাঈমের ব্যক্তিগত অবদান ৩৩।
হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম ৮ রান করে এবং শরিফুল ইসলাম ৭ রান যোগ করেন। আগের দিন থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করা নাঈম ক্যারিবীয় স্পিনারদের বিপক্ষে সুইপ শট খেলেছেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। তবে তার এই লড়াই দলের সংগ্রহকে সম্মানজনক পর্যায়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট হয়নি।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্র ছিল আরও স্পষ্ট। প্রথম পাঁচ ব্যাটারের সম্মিলিত অবদানও দলের প্রয়োজন মেটাতে পারেনি। অন্যদিকে ক্যারিবীয় স্পিনার রস্টন চেইস একাই ভেঙে দেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। ৩৬ রান খরচায় পাঁচ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। জোমেল ওয়ারিক্যান নেন চার উইকেট।
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চড়াও হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল। তাদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র ১১ ওভারেই স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ৫০ রান। বাংলাদেশের বোলাররা উইকেট থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা আদায় করতে পারেননি। অথচ দিনের সকালে এই উইকেটেই ক্যারিবীয় স্পিনাররা পেয়েছেন যথেষ্ট টার্ন। বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে উইকেটকে স্পিন সহায়ক মনে হলেও নিজেদের বোলিংয়ে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি তাইজুল-মিরাজরা।
এই হারের মধ্য দিয়ে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের টানা পাঁচ টেস্ট জয়ের ধারাও থেমে গেল। এর আগে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে জয় পেয়েছিল টাইগাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে এই পরাজয় শুধু সিরিজের হিসাবেই ধাক্কা নয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার পথও কঠিন করে তুলেছে।
ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে বাকি পাঁচ টেস্টের অন্তত চারটিতে জয় পেতে হবে বাংলাদেশকে এবং অন্য ম্যাচটি ড্র করতে হবে। ফলে পরের ম্যাচ থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিতে হবে শান্তদের।
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ শুরু হবে ৫ নভেম্বর। প্রথম টেস্টের ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে সিরিজে সমতা ফেরানোই এখন বাংলাদেশের সামনে প্রধান লক্ষ্য!















