প্রতিনিধি ৮ অক্টোবর ২০২৬ , ৩:২৭:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ
চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বরের আগে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ পুনর্বহাল করাকে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
একই সঙ্গে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করে ২০২৭ সালের মধ্যে মূল কাজ শুরুর লক্ষ্য নিয়েও এগোচ্ছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।
পদ্মা ব্যারাজ প্রসঙ্গে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি মেগা প্রকল্প। এসব প্রকল্পের সুফল দেশের মোট অঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ পাবে।’
তিনি বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো এক সময়ে প্রকল্পটির কাজ দৃশ্যমান হবে।’
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী। ভারত থেকে উজানের পানি যেভাবে ভাটির দিকে আসে, তা দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে এরই মধ্যে অনেক সেমিনার হয়েছে এবং আলোচনা চলছে।’
তিনি জানান, বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠক হয়েছে এবং তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি অনেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তাদের কারিগরি সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘খুব শিগগির তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ হাতে নিতে হবে। এই সমীক্ষার ভিত্তিতেই প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করা হবে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে। ২০২৭ সালের মধ্যে সব কাজ শেষ করে ওই বছরই মূল প্রকল্পের কাজ শুরু করার বিষয়ে সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে।’
গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছরের চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হবে। ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম পাঁচ বছরের জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। তবে ১৯৯৬ সালে ওই গ্যারান্টি ক্লজ বাদ দিয়ে চুক্তিটি নবায়ন বা নতুন করে করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘১২ ডিসেম্বরের আগেই নতুন চুক্তি করতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় পক্ষ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৈঠক ও আলোচনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ আশাবাদী, নির্ধারিত সময়ের আগেই ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন চুক্তি সম্পন্ন হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা।’
পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘পদ্মা ও তিস্তার পাড়ে যারা বসবাস করেন, তারা বাংলাদেশেরই মানুষ। দেশের মানুষের স্বার্থ ও চাপই তার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। সেই চাপকে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।’
পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু করতে এত সময় লাগার কারণ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পটির স্টাডি সম্পন্ন করতেই ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল। এরপর প্রকল্পটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সেটি চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।’
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়েও তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মেগা প্রকল্পের স্টাডি রাতারাতি বা এক-দুই মাসে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। অতীতে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা পর্যাপ্ত কারিগরি সহায়তা নিয়ে কাজটি শেষ করেননি। তাই বর্তমান সরকার নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটিকে দৃশ্যমান রূপ দিতে চায়।’





















