প্রচ্ছদ

গাইবান্ধায় সাঁওতালদের সমাধিস্থল দখলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

  গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি ১ মার্চ ২০২৫ , ৭:৪৫:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের সমাধিস্থল দখল ও মৃতদেহ সমাধিস্থ করতে বাধা দেওয়ার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপাহার ইউনিয়নের জয়পুর সাঁওতাল পল্লীর স্কুল মাঠে আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ ও এএলআরডি এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সাঁওতাল পল্লীতে সন্ত্রাসী হামলায় গুলিবিদ্ধ দ্বিজেন টুডু। সঞ্চালনায় ছিলেন অ্যাডভোকেট ফারুক কবীর।

বক্তব্য দেন—আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, সদস্যসচিব প্রবীর চক্রবর্তী, সমাজকর্মী মনির হোসেন সুইট, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ফিলিমন বাস্কে, তারামনি সরেন, সুচিত্রা মুরমু তৃষ্ণা, শ্যামবালা হেমব্রম, রাফায়েল হাসদা, সাহেব মুরমু, সুফল হেমব্রম, আন্দ্রিয়াস মুরমু, থমাস হেমব্রম, কমল মুরমু, ব্রিটিশ সরেন, কৃষ্ণ মুরমু প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গোবিন্দগঞ্জের রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তার দলবল নিয়ে রাজাবিরাট এলাকার সাঁওতালদের একমাত্র সমাধিস্থল জবর-দখল করেছেন এবং সাঁওতালদের মৃতদেহ সমাধিস্থ করতে বাধা দিচ্ছেন, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

তারা আরও জানান, গত ৩ জানুয়ারি রাজাবিরাটে গাইবান্ধা আইন কলেজের ছাত্র ব্রিটিশ সরেনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার মা ফিলোমিনা হাসদাকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ফিলোমিনা হাসদা চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকতেই চেয়ারম্যান রফিকুল ও তার সহযোগীরা ব্রিটিশ সরেনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।

এ ঘটনায় জুলিয়াস সরেন বাদী হয়ে রফিকুল ইসলামসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া রফিকুল ইসলাম বর্তমানে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় সাঁওতালদের জমি দখল, কৃষিকাজে বাধা ও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

বক্তারা ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সাহেবগঞ্জে সাঁওতালদের উপর হামলার মূল হোতা প্রাক্তন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান।

তারা প্রশাসনের কাছে অনতিবিলম্বে সাঁওতালদের সমাধিস্থল উদ্ধার, জমি ফেরত দেওয়া এবং সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

লালচান বিশ্বাস সুমন /এমআই

আরও খবর

Sponsered content