নীলফামারী প্রতিনিধি | ৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৮:৫৩:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
নীলফামারীর সৈয়দপুরে চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে একজনকে আহত করার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কামারপুকুর ইউনিয়ন সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন সরকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন আব্দুল গফুর সরকারের চাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে আনোয়ার হোসেন সরকারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি এবং নীলফামারী-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুর গফুর সরকার।
এই যোগদানকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চলমান মামলার চাপ ও চেয়ারম্যান পদ রক্ষার জন্যই আনোয়ার হোসেন সরকার বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলিতে নুর ইসলাম নামে এক ব্যক্তি আহত হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর একটি মামলা দায়ের হয়। পরে ওই বছরের ৬ অক্টোবর আনোয়ার হোসেন সরকারকে গ্রেপ্তার করা হলেও বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। মামলা নম্বর–০৪, জিআর–১৮৭/২৪; ধারা–১৪৩/৩২৩/৩২৬/৪৩৬(ক)/৪১১/৩৪ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৫/৬ ধারায় মামলা চলমান রয়েছে।
এছাড়াও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
কামারপুকুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, “যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিল, তারা সুযোগ বুঝে দল বদলাচ্ছে। এতে বিএনপির ক্ষতিই হবে। দীর্ঘদিন যারা মামলা-হামলা সহ্য করে দলে আছে, তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।”
এক ছাত্রনেতা বলেন, দলে গ্রহণযোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কিছু বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলে ভেড়ানো হলে তা ভবিষ্যতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ধরনের মন্তব্য ও প্রতিবাদ লক্ষ্য করা গেছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, এই যোগদানের ফলে সাংগঠনিক শক্তি বাড়তে পারে এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার বলেন, “নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়নের কারণে অনেক মানুষ বিএনপিতে যোগ দিচ্ছে। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে বিএনপিই জনগণের ভরসা। যারা দলে যোগ দিয়েছেন, তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের কোনো মামলায় আনোয়ার হোসেন সরকারের নাম নেই। পুলিশ যদি তাকে গ্রেপ্তার করে থাকে, সেটি পুলিশের বিষয়। প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বলা যায় না।”
জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ওবায়দুর রহমান বলেন,
“যাদের দলে স্বাগত জানানো হয়েছে, তাদের প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হয়েছে। এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ দেওয়া হয়নি।”
এই যোগদানকে ঘিরে সৈয়দপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিশ্লেষণ অব্যাহত রয়েছে।




















