প্রচ্ছদ

সাকিব আল হাসানের সিনেমায় ‘অভিনয়’ করা নিয়ে মিথ্যাচারে নির্মাতার ৬৫ লাখ টাকার ক্ষতি

  প্রতিনিধি ২৭ জুন ২০২৫ , ৫:০৯:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ

বিনোদন ডেস্ক: ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানকে বলা হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মডেল। মাঠে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নানা ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও তিনি আলোচনায় থাকেন। তবে এবার আলোচনায় এলেন এক ভিন্ন কারণে—সিনেমায় অভিনয় করে তা অস্বীকার করার অভিযোগে।

এক যুগ আগে নির্মাতা রাজিবুল হোসেন পরিচালনা করেছিলেন একটি সিনেমা, নাম ছিল ‘সব কিছু পেছন ফেলে’। শহরের পাঁচ তরুণ-তরুণীর গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিনেমায় অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সাকিব আল হাসান। শুটিং হয়েছিল কক্সবাজারে। কিন্তু মাঝপথেই থেমে যায় পুরো প্রজেক্ট, আর মুক্তির আলোও দেখতে পারেনি সিনেমাটি।

শুটিং করেছেন, কিন্তু পরে অস্বীকার!

সম্প্রতি সোশ্যাল হ্যান্ডেলে নির্মাতা রাজিবুল হোসেন নিজেই ফাঁস করেন ঘটনা। তার ভাষায়,“সাকিব আল হাসান শুটিং করেছেন, ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় করেছেন। আমরা ক্ল্যাপস্টিক দিয়ে দৃশ্য ধারণ করেছি, রেকর্ডিংও হয়েছে প্রফেশনালি। কিন্তু যখন গণমাধ্যমে খবর ফাঁস হয়, সাকিব বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। এরপর বন্ধ হয়ে যায় বাকি শুটিং।”

নির্মাতার দাবি, এই অস্বীকার করার মধ্য দিয়েই সিনেমাটি পড়ে যায় অনিশ্চয়তার মুখে।

সাকিব ছিলেন ফুজিফিল্মের মাধ্যমে যুক্ত

নির্মাতা রাজিবুল জানান, “সাকিব তখন ফুজিফিল্ম বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন। তাদের সঙ্গে সাকিবের চুক্তি ছিল, বছরে সুবিধা অনুযায়ী ৮ দিন সময় দেবেন। ফুজি আমাদের আশ্বস্ত করেছিল—সাকিব সিনেমায় অভিনয় করবেন এবং একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থও তারা দেবে।”

নির্মাতা আরও বলেন, “ফুজিফিল্ম তখন জানায়, সাকিব যদি না চান, তাহলে তাকে বাদ দিয়েই সিনেমাটি শেষ করতে বলেছে। কিন্তু আমি তা করিনি। কারণ, আমি বিশ্বাস করি—অসম্পূর্ণ সত্য দিয়ে পূর্ণ সিনেমা বানানো যায় না।”

৬৫ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ

রাজিবুল হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, “আমার এই প্রজেক্টে ৬৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু আমি নই, এর সঙ্গে যুক্ত ছিল আরও বহু টেকনিশিয়ান, শিল্পী, স্পন্সর। এই মিথ্যাচার একটা শিল্পভিত্তিক কাজকে অসম্মান করেছে।”

এত দিন পর কেন বলছেন?

নির্মাতার ভাষায়, “অনেকেই বলে সিনেমাটি পরিচালনাগত দুর্বলতায় বন্ধ হয়েছে। আমি তাদের সত্যিটা জানাতে চেয়েছি। এটা কোনো প্রোডাকশনের দুর্বলতা ছিল না, বরং একটি অনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণেই সিনেমাটি অসমাপ্ত থেকে গেছে।”

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল। একদিকে দেশের জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকা, অন্যদিকে চলচ্চিত্র শিল্প—দুই অঙ্গনের এই অদ্ভুত মেলবন্ধন ভেঙে গিয়েছিল দুর্ভাগ্যজনকভাবে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে—সাকিব আল হাসান কি এ বিষয়ে মুখ খুলবেন? নাকি এই অভিযোগ থাকবে নির্মাতার আক্ষেপ হিসেবেই?

আরও খবর

Sponsered content