সারাদেশ

ডেঙ্গুতে রংপুর বিভাগে মৃতের সংখ্যা ৯, এক দিনে আক্রান্ত ৬৪

  মো. সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার: ৮ অক্টোবর ২০২৬ , ২:৪৮:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুর বিভাগের দিনাজপুরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হারুন (৪৮) নামে এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। একই সময়ে বিভাগে নতুন করে আরও ৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হারুন গত ৪ অক্টোবর দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবার জানায়, হারুন ঢাকায় রিকশা চালাতেন। সেখানে থাকাকালে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। পরে গ্রামের বাড়িতে ফিরে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। প্রায় ১৫ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন হারুন বলেও জানিয়েছে পরিবার।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃত ৯ জনের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঁচজন, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে দুজন এবং দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন মারা গেছেন।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রংপুরে ৩০ জন, দিনাজপুরে ৩, লালমনিরহাটে ৭, গাইবান্ধায় ১৪ এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ১০ জন রয়েছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২ হাজার ৯৩৬ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৭২০ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ২০৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও বাড়িঘরে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো জরুরি। একই সঙ্গে জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে হবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে সিটি করপোরেশন, পৌর এলাকা এবং প্রতিটি বাড়িতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সামান্য জ্বর দেখা দিলেও অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।”

আরও খবর

Sponsered content