জাতীয়

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথ: ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় প্রবীণ-তরুণের সমন্বয়, দফতর বণ্টনে চমক

  নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক মতপ্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৭:২৪:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীসহ ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী


সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশের নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেন।

৫০ সদস্যের এই মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে উদ্যমী তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত এই মন্ত্রিসভাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সময়োপযোগী বলে অভিহিত করছেন।

নতুন মন্ত্রিসভা প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “ব্যক্তি নয়, কাজ দিয়ে এই সরকারকে মূল্যায়ন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যই সুপরিচিত এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে কাজ করেছেন।”


দফতর বণ্টনে বড় চমক

দফতর বণ্টনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়: সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসন ও ত্যাগের পর সালাহ উদ্দিন আহমেদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন ও দুর্নীতি দমনে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়: আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অতীতে পরীক্ষায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার কারণে তাকে আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখছেন অনেকে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান: তরুণ নেতা নুরুল হক নুরকে এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

টেকনোক্র্যাট অন্তর্ভুক্তি: টেকনোক্র্যাট কোটায় ড. খলিলুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক মহলে বড় চমক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


জনআকাঙ্ক্ষা ও প্রতিক্রিয়া

নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পর রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

রাজধানীর ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন বলেন, “তরুণ ও প্রবীণের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। পরীক্ষিত নেতৃত্বের পাশাপাশি অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের অন্তর্ভুক্তি ইতিবাচক দিক।”

একজন ব্যাংক কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা অনেক। রাষ্ট্র পরিচালনায় গতি আসবে বলে আশা করছি।”

শিক্ষা খাত নিয়ে শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক সোহরাব হোসেন বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্ব অতীতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। আমরা চাই শিক্ষার মানোন্নয়ন হোক এবং শিক্ষা খাতকে ঢেলে সাজানো হোক।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “নতুন নেতৃত্ব মৌলিক অধিকার রক্ষা ও দুর্নীতি দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।”


নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনা

৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নারী সদস্য সংখ্যা তিনজন হওয়ায় কিছু মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। রাজধানীর বেসরকারি চাকুরে তাহমিনা বেগম বলেন, “নারী প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়লে ভালো হতো। তবে সামগ্রিকভাবে সরকারের কার্যক্রমই শেষ পর্যন্ত মূল্যায়নের ভিত্তি হবে।”


সামনে চ্যালেঞ্জ

২০ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরা দলের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ জনআস্থা ধরে রাখা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমন এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠাই হবে সরকারের প্রথম পরীক্ষা।

প্রবীণ রাজনীতিকদের অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত এই মন্ত্রিসভা আগামী দিনে দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে দেশবাসী।

আরও খবর

Sponsered content