আবুল কাশেম রুমন, সিলেট প্রতিনিধি: ৮ অক্টোবর ২০২৬ , ৩:০৭:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর নতুন পরিকল্পনায় সিলেটের জালালাবাদ পার্ক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। সংস্কারের পর পার্কটির নাম দেওয়া হবে ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক’। নতুন পরিকল্পনায় শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্কদের হাঁটা ও শরীরচর্চার সুযোগ রাখার কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।
জানা যায়, ২০০৫ সালে জালালাবাদ পার্কের জায়গায় ১৬ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিসিক। পরিবেশবাদী সংগঠন ও নগরবাসীর প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ। পরে নাগরিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পার্কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১০ সালের দিকে সীমানা নির্ধারণ ও প্রবেশপথ নির্মাণের পর জায়গাটি সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে পার্কটিকে শিশুপার্কে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেখানে বিনোদনসামগ্রী স্থাপনের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। একই সময়ে পার্কের সম্মুখভাগে উঁচু দেয়াল নির্মাণ নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে। তাদের আশঙ্কা ছিল, অতিরিক্ত উঁচু দেয়াল পার্কটির উন্মুক্ত পরিবেশ ও দৃশ্যমানতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর এবার নতুন করে পার্কটি সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) নগর ভবনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পার্কটি পরিদর্শন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর নির্দেশ দেন।
নতুন পরিকল্পনায় শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্কদের হাঁটা ও শরীরচর্চার ব্যবস্থা থাকবে। থাকবে বসার স্থান, সবুজায়ন ও বিনোদনের উপযোগী পরিবেশ। একই সঙ্গে পার্কের প্রবেশপথ ও সীমানাপ্রাচীরেও পরিবর্তন আনা হবে।
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত এ পার্কটির এক পাশে সিলেট সার্কিট হাউস এবং অন্য পাশে জেলা পরিষদ। এর সামনে ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রিজ, পাশেই সুরমা নদী ও আলী আমজাদের ঘড়িঘর। ফলে নগরবাসীর পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও স্থানটির গুরুত্ব রয়েছে।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সাগরদিঘীর পাড়ে সিসিকের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ যান এবং সুন্দর সময় কাটান। এবার জালালাবাদ পার্কটিও দ্রুত জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি বয়স্কদের হাঁটা ও শরীরচর্চার উপযোগী করে পার্কটি সাজানো হবে।
তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় এবার বড় প্রশ্ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে। বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ থেকে শুরু করে শিশুপার্কে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ—একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হলেও পার্কটির স্থায়ী ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। নগরবাসীর প্রত্যাশা, এবার শুধু নাম পরিবর্তন বা সৌন্দর্যবর্ধন নয়; নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও উন্মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে ৯৪ শতকের এ উদ্যানকে দীর্ঘমেয়াদে সচল রাখা হবে।















