প্রতিনিধি ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১০:০০:১২ প্রিন্ট সংস্করণ
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক কোচ জেসন গিলেস্পি। বিশেষ করে প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার।
তিন ম্যাচের সিরিজে ইতোমধ্যে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারের পর লর্ডসে ১৯৪ রানে হেরে যায় তারা। এরপর বার্মিংহামে ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টের আগে দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে হেড কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেষ টেস্টের দায়িত্ব সামলাতে এরই মধ্যে মাইক হেসন ও অ্যাশলি নফকেকে যুক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালে প্রায় আট মাস পাকিস্তানের কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন গিলেস্পি। তার অধীনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল পাকিস্তান। বর্তমান পরিস্থিতি তার কাছে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মনে হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমকে গিলেস্পি বলেন, ‘আমার খেলোয়াড়দের জন্য খারাপ লাগছে। কারণ এটা তাদের জীবিকা। বাইরে থেকে মনে হচ্ছে, তারা ভয় নিয়ে খেলছে।’
দল থেকে সালমান আলী আগাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গিলেস্পি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সালমান। কিন্তু পরের টেস্টে তাকে বাদ দেওয়া হয় এবং তৃতীয় টেস্টের আগেই দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
গিলেস্পি বলেন, ‘প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া একজন খেলোয়াড় কীভাবে পরের টেস্টে বাদ পড়ে যান এবং তৃতীয় টেস্টের আগেই বিমানে দেশে ফিরে যান? এটা কীভাবে সম্ভব?’
পাকিস্তানের দল নির্বাচনেও কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক এই পেসার। এ জন্য তিনি সরাসরি আকিব জাভেদকে দায়ী করেছেন।
গিলেস্পির ভাষায়, ‘বিশেষ করে আকিব জাভেদের অধীনে তাদের কোনো বাছাই কৌশলই নেই—বিষয়টি বেশ স্পষ্ট। তারা যেমন পোশাক বদলায়, তেমনি সিদ্ধান্তও বদলায়।’
সম্প্রতি পাকিস্তান দলের সমস্যার জন্য সাবেক কোচদের দায়ী করার চেষ্টা করেছিলেন আকিব জাভেদ। গিলেস্পি ও সাবেক সাদা বলের কোচ গ্যারি কারস্টেনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন তিনি। সেই বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেছেন গিলেস্পি।
তিনি বলেন, ‘আকিব জাভেদ সম্প্রতি যা কিছু ঘটছে তার জন্য গ্যারি কারস্টেন ও আমাকে দায়ী করেছেন। অথচ গত দুই বছর ধরে তিনিই প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে আছেন। আমরা তো সেখানে ছিলামই না। তারপরও কীভাবে তিনি আমাদের দায়ী করেন? আমার মনে হয়, জাভেদের নিজের দিকেই আগে তাকানো উচিত।’
শুধু খেলোয়াড় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নয়, বাদ পড়া খেলোয়াড়দের বিষয়টি কীভাবে জানানো হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গিলেস্পি।
তিনি বলেন, ‘প্রধান নির্বাচক হিসেবে আকিব জাভেদ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো যোগাযোগই নেই।’
‘যেসব খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হয়েছে, তারা দল থেকে বাদ পড়ার খবর পেয়েছে পরিবার, বন্ধু ও সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে। এর চেয়ে অসম্মানজনক আর কী হতে পারে?’
চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কয়েকজন খেলোয়াড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ঘোষণা দেখার পর জানতে পারেন যে তাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি দলীয় ব্যবস্থাপনা, অধিনায়ক বা কোচের পক্ষ থেকেও তাদের সরাসরি বিষয়টি জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
তৃতীয় টেস্টের জন্য পরিবর্তিত দলে মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আগা, আলী উসমান, খুররম শাহজাদ, আমির জামাল ও আওয়াইস জাফরকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বার্মিংহাম টেস্টে পাকিস্তানের সামনে এখন জয় ছাড়া বিকল্প নেই। হারলেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হবে তারা। এরই মধ্যে দল পুনর্গঠন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক শেষ ম্যাচের আগে পাকিস্তান শিবিরের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।















