প্রতিনিধি ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১:৪৮:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ
স্প্যানিশ লিগে ফিরে প্রথম হারের স্বাদ পেলেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনহো। শুক্রবার বেতিসের কাছে ১-০ গোলে হারের পরও পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারছেন না তিনি।
ম্যাচের ৮১ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ট্রয় প্যারটের গোলে এগিয়ে যায় বেতিস। এরপর নাটকীয় হয়ে ওঠে শেষ মুহূর্ত। কার্লোস এসপির দুর্দান্ত একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। যোগ করা সময়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টিও ঠেকিয়ে দেন বেতিসের গোলরক্ষক আলভারো ভায়েস।
সেভিয়ার ম্যাচটিতে রিয়াল মাদ্রিদ আটটি শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল। গোলের সম্ভাবনা বিবেচনায় তাদের হিসাব ছিল ৩.১৬। কিন্তু এত আক্রমণ ও সুযোগ তৈরি করেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের।
২০১৪-১৫ মৌসুমের পর এবারই প্রথম লিগে নিজেদের প্রথম চার ম্যাচের মধ্যে একটিতে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মরিনহো বলেন, ‘কখনো কখনো আপনি হেরে যান, কিন্তু কেন হারলেন তা জানেন না। কখনো হারলেও কীভাবে হারলেন, সেটাও ব্যাখ্যা করা কঠিন। আমরা পুরো ম্যাচে দারুণ নিয়ন্ত্রণে ছিলাম, মনোযোগী ছিলাম এবং সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেছি। আক্রমণ করেছি, অনেক সুযোগও তৈরি করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাচটি ড্র হলেও আমরা হতাশ হতাম, কারণ আমাদের আরও বেশি প্রাপ্য ছিল। সেখানে হার—ভাবতেই পারেন কতটা হতাশাজনক।’
এমবাপ্পের পেনাল্টির সময় বেতিসের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মার্ক বার্ত্রা পেনাল্টি এলাকার ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন বলে দাবি করে রিয়াল। তাই পেনাল্টিটি আবার নেওয়া উচিত ছিল বলেও মনে করে তারা।
তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি মরিনহো। তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাগুলো দেখিনি। সাজঘরেও দেখিনি। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করতে পারছি না।’
‘হয়তো আগামীকাল ম্যাচটি দেখার পর আমার মত বদলাতে পারে। কিন্তু বেঞ্চে বসে আমার যে অনুভূতি হয়েছে, তাতে বুঝতে পারছি না আমরা কেন হেরেছি। এর কোনো যুক্তিসংগত কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। দল সব দিক থেকেই খুব ভালো খেলেছে। ব্যক্তিগতভাবেও কাউকে সমালোচনা করার কিছু নেই। আমাদের স্পষ্টতই জেতা উচিত ছিল। কিন্তু প্রাপ্যতা আপনাকে পয়েন্ট এনে দেয় না।’
এ মৌসুমে রিয়ালের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন গ্রীষ্মের দলবদলে দলে যোগ দেওয়া এসপি। এর আগে এস্পানিওলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। এবার লা কার্তুহায়ও তার গোলেই রিয়াল সমতা ফেরাতে পারত। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
এসপির প্রশংসা করে মরিনহো বলেন, ‘একজন তরুণ খেলোয়াড় ১০ বা ১৫ মিনিট মাঠে নেমে দুর্দান্ত একটি গোল করেছে—অফসাইড হয়ে থাকতে পারে—কিন্তু সে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। সে নিজের কাজ খুব ভালোভাবে করেছে। তার দারুণ সম্ভাবনা আছে এবং সে আরও উন্নতি করবে। তাকে নিয়ে আমি এর চেয়ে বেশি খুশি হতে পারতাম না।’
ম্যাচজুড়ে রেফারিকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে রিয়ালের খেলোয়াড়দের ‘অপরিণত’ বলেও মন্তব্য করেছেন মরিনহো।
তিনি বলেন, ‘এই দিক থেকে বেতিসের খেলোয়াড়েরা রিয়ালের খেলোয়াড়দের চেয়ে বেশি চালাক। রিয়ালের খেলোয়াড়েরা কিছুটা অপরিণত। বেতিসের খেলোয়াড়েরা রেফারির ওপর প্রভাব ফেলার চেষ্টা করেছে। অথচ রিয়ালের খেলোয়াড়েরা কোনো ঘটনার পর হলুদ কার্ড পাওয়ার মতো পরিস্থিতি হলেও সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ায়।’
‘এই মানসিকতার দলগুলোর বিপক্ষে খেললে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।’
এদিকে রিয়ালের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার সামনে এখন লিগে তিন পয়েন্টের ব্যবধান তৈরি করার সুযোগ। রোববার ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে খেলবে তারা।















