খেলাধুলা

বাংলাদেশ ইস্যুর মধ্যেই বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন চাপে আইসিসি

  প্রতিনিধি ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:১২:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে খেলোয়াড়দের নাম, ছবি ও পরিচিতি ব্যবহারের অধিকার (নেম, ইমেজ অ্যান্ড লাইকলনেস-এনআইএল) সংক্রান্ত স্কোয়াড অংশগ্রহণের শর্তাবলি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)।

ক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডব্লিউসিএ অভিযোগ করেছে যে আইসিসি খেলোয়াড়দের কাছে স্কোয়াড অংশগ্রহণের শর্তাবলির এমন একটি সংস্করণ পাঠিয়েছে, যা ২০২৪ সালে উভয় পক্ষের স্বাক্ষরিত ও সম্মত চুক্তির সঙ্গে “সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়”। ডব্লিউসিএ আরও দাবি করেছে, নতুন এই সংস্করণটি আগের তুলনায় অনেক বেশি “শোষণমূলক”।

এ নিয়ে ডব্লিউসিএ ইতোমধ্যেই আইসিসিকে লিখিতভাবে তাদের উদ্বেগ জানিয়েছে। তবে আইসিসি এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ওই চুক্তিটি কেবল আটটি সদস্য বোর্ডের জন্য প্রযোজ্য ছিল এবং আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অন্য দলগুলো এর আওতাভুক্ত নয়।

এর জবাবে ডব্লিউসিএ জানায়, ২০২৪ সালের চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা ছিল-এটি খেলোয়াড় সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সব খেলোয়াড়ের জন্যই প্রযোজ্য হবে, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিক বা না নিক। ফলে ডব্লিউসিএ এর মতে, সব খেলোয়াড়ই ওই চুক্তির মাধ্যমে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী।

ডব্লিউসিএ -এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টম মফাট বলেন, দুটি সংস্করণের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে-বিশেষ করে কনটেন্ট ও মিডিয়া উপস্থিতি, পর্দার আড়ালের ফুটেজ, ড্রেসিংরুমে প্রবেশাধিকার, খেলোয়াড়দের জৈবিক তথ্য, লাইসেন্সিং, নাম-ছবি ও পরিচিতি (এনআইএল), খেলোয়াড় চুক্তি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায়।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের চুক্তিতে খেলোয়াড়দের নিজেদের উদ্বেগ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও আলোচনা করার সুযোগ ছিল। কিন্তু নতুন সংস্করণে সেই ক্ষমতা তাদের নিজ নিজ ক্রিকেট বোর্ডের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

মফাটের ভাষায়, ‘আইসিসি যে শর্তাবলি দিয়েছে, তা আমাদের সম্মত চুক্তির তুলনায় খেলোয়াড়দের ইমেজ ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের অধিকারসহ বিভিন্ন সুরক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো-সবচেয়ে দুর্বল খেলোয়াড় গোষ্ঠীগুলোকেই আলাদা ও ভিন্ন শর্তে খেলতে বাধ্য করা হচ্ছে, অথচ তারা একই পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। অনেক খেলোয়াড়ের জন্য আইসিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণই আয়ের প্রধান উৎস এবং ক্যারিয়ার গঠনের বড় সুযোগ।’

সবশেষে মফাট বলেন, ‘ডব্লিউসিএ খেলাটির বিকাশ এবং আইসিসি ইভেন্টগুলোর উন্নয়নের পক্ষে। তবে এই লক্ষ্যগুলো খেলোয়াড়দের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে অর্জন করা উচিত, তাদের ক্ষতির বিনিময়ে নয়। সংশ্লিষ্ট ডব্লিউসিএ খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যেই সম্মত স্কোয়াড শর্তাবলিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং আমাদের প্রত্যাশা-টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ আইসিসি সেই শর্তাবলি মেনে চলবে।’

আরও খবর

Sponsered content