প্রতিনিধি ৩ নভেম্বর ২০২৫ , ২:২৯:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ
মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের বেহেরকান্দি গ্রামে প্রতিপক্ষের গুলিতে তুহিন দেওয়ান (২২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার রাত পৌনে ১০টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত তুহিন ওই গ্রামের সেলিম দেওয়ানের ছেলে।
গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির বিবদমান দুই গ্রুপের পুরনো বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ড ঘটে।
ঘটনার পর থেকে বেহেরকান্দি ও মুন্সীকান্দি গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুই গ্রুপ—বেহেরকান্দি গ্রামের তুহিনপন্থী ও মুন্সীকান্দি গ্রামের বিএনপি নেতা উজির আলী গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও একাধিকবার তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
রোববার রাতে বাড়ি ফেরার সময় তুহিনকে লক্ষ্য করে উজির আলী গ্রুপের সদস্য লিটন বেপারী পেছন থেকে গুলি চালায়। গুলিটি তুহিনের গলার পেছনে লাগে। গুলির শব্দে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসক তুহিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত তুহিনের মা লাকী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,“লিটন বেপারী আমার নিষ্পাপ ছেলেকে গুলি কইরা মাইরা লাইছে। আমি তার ফাঁসি চাই।”
তুহিনের ভাই আক্কাস দেওয়ান অভিযোগ করেন,“লিটন আগে থেকে ওত পেতে ছিল। পেছন থেকে গুলি করে আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। লিটন বিএনপি নেতা উজির আলী গ্রুপের লোক।”
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত লিটন বেপারী পলাতক। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে বিএনপি নেতা উজির আলী জানিয়েছেন, “আমি ঢাকায় থাকি, গ্রামে কী হয়েছে তা আমার জানা নেই। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই।”
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন,“ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।”














