মো. গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: ২৮ মার্চ ২০২৬ , ৪:৩০:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১টায় মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ও ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, “আমি শুধু একজন ব্যক্তি নই, সাংবাদিক সমাজের একজন প্রতিনিধি। আমার ওপর হামলা মানে পুরো সাংবাদিক সমাজকে ভয় দেখানোর চেষ্টা।” তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তা প্রত্যাখ্যান করায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হামলার সময় তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হলে তিনি তা প্রতিহত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শেখ রহমতুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ মামুনুর রশীদসহ অন্যান্য নেতারা বলেন, মাইক্রোবাস ভাড়া করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে, যা উদ্বেগজনক।
রিভিরসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রাব্বানী অভিযোগ করেন, ঘটনার পরও প্রধান অভিযুক্ত নূরে ইসলাম মিলন ও সুরুজ আলী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, রাজশাহী প্রেসক্লাব অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এখনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।
এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় নূরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলীসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা টিম কাজ করছে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ রাত ৮টার দিকে শিরোইল কাঁচাবাজার এলাকায় অবস্থিত বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন।





















