সারাদেশ

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে শিক্ষকের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে বিক্ষোভ, কোচিং সেন্টার ঘেরাও

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ৭ মে ২০২৬ , ৬:৩১:৪৩ প্রিন্ট সংস্করণ

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের এক শিক্ষকের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলেজ এলাকা। অভিযুক্ত কোচিং সেন্টার পরিচালক ডা. সজিবের গ্রেপ্তার ও কোচিং সেন্টার বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা একটি কোচিং সেন্টার ঘেরাও করে সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং সাইনবোর্ড খুলে ফেলেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা শহীদ রিমু সড়কে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ থাকায় এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজ চলাকালে সরকারি কলেজের সামনে ‘সজিব বায়োলজি একাডেমি’ নামে একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন ডা. সজিব। এ বিষয়ে কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. শহীদুল ইসলাম আপত্তি জানান। এর জেরে ডা. সজিব মুঠোফোনে তাঁকে হুমকি ও অশালীন ভাষায় কথা বলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ ও কোচিং সেন্টারটি ঘেরাও করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে কোচিং সেন্টার থেকে একটি হার্ডডিস্ক ও একটি কম্পিউটার জব্দ করা হয়। পাশাপাশি সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রাশিয়া আক্তার বলেন, “একজন সম্মানিত শিক্ষকের সঙ্গে যেভাবে কথা বলা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এর বিচার চাই।”

আরেক শিক্ষার্থী মাসুদ বলেন, “কোচিং সেন্টারটি স্থায়ীভাবে বন্ধ না করা হলে রোববার আবারও আন্দোলনে নামবেন শিক্ষার্থীরা।”

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল হাসেম বলেন, তাঁদের কলেজের এক প্রভাষকের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সুশান্ত ঘোষ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কলেজ অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে কোচিং সেন্টার থেকে একটি হার্ডডিস্ক জব্দ করা হয়েছে এবং সেন্টারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ডা. সজিব বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ডা. সজিবের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

আরও খবর

Sponsered content