সারাদেশ

বরেন্দ্র অঞ্চরে নিোপদ পানিে টেকসই সমাধারি িতুি উরদযাগ ‘সাওয়াব’

  রাজশাহী প্রতিনিধি: ৭ মে ২০২৬ , ১:২৮:২২ প্রিন্ট সংস্করণ

বরেন্দ্র অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানির টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ লক্ষ্য সামনে রেখে ডাসকো ফাউন্ডেশন রাজশাহীতে উদ্বোধনী কর্মশালার মাধ্যমে ‘বরেন্দ্র অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানির টেকসই প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি (সাওয়াব)’ শীর্ষক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে। দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কর্মশালায় সরকারি দপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী, কমিউনিটি প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথি ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের উপদেষ্টা মন্টু কুমার বিশ্বাস, কোকা-কোলা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইন উল্লাহ চৌধুরী এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা ডা. তারুণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

ডাসকো ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল হক আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান জাইতুনা খাতুন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম খান। তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরেন্দ্র অঞ্চল দিন দিন তীব্র পানিসঙ্কটের মুখে পড়ছে।

তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্প নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার মানুষ উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, সৌর ও বৈদ্যুতিক সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পুকুর পুনঃখনন, স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যবিধি প্রচার এবং ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট কমিটি শক্তিশালীকরণের মতো কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি এবং স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

কোকা-কোলা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইন উল্লাহ চৌধুরী বলেন, “নিরাপদ পানি কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মৌলিক মানবাধিকার। কোকা-কোলায় আমরা শুধু পানীয় উৎপাদন করি না, বরং সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, “দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেয়। এই উদ্যোগের দ্বিতীয় ধাপে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করে টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারব বলে বিশ্বাস করি।”

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বরেন্দ্র অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান পানিসঙ্কট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটিকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

শেষে অংশীদারদের সম্মিলিত অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে। তারা বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিসঙ্কট মোকাবিলায় নিরাপদ, টেকসই ও সমানাধিকারভিত্তিক পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আরও খবর

Sponsered content