প্রতিনিধি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১১:৫৫:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আপসহীন নেত্রী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় দেশ ছাড়ার জন্য চাপ থাকলেও তিনি দেশ ছাড়েননি। বিএনপির নেতৃত্বের জন্য তিনি কঠিন সময়েও আপস করেননি।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হন। দলের বিপর্যয়ের সময়ে খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগ দেন। কম সময়ের মধ্যে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন এবং ১৯৮৪ সালের ১২ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। একই বছরের ১০ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩, ২০০৯ ও ২০১৬ সালে বিএনপির কাউন্সিলে পুনর্নির্বাচিত হন।
দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে খালেদা জিয়া এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন আন্দোলন পরিচালনা করেন। ১৯৮৭ সালে ‘এরশাদ হটাও’ আন্দোলন শুরু করেন এবং দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারিতে বিএনপিকে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দেন। সেই নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই খালেদা জিয়া বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৭ সালে তিনবার গ্রেপ্তার হন। পরে ওয়ান ইলেভেনের সময়ও তাকে কারাগারে রাখা হয়, কিন্তু তিনি দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আপস করেননি।
বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে নানা অন্যায় ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন বন্দি থাকলেও খালেদা জিয়া কখনও হার মানেননি। দেশের রাজনীতিতে আপসহীন নেতা হিসেবে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।




















