সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা প্রতিনিধি: ৭ মে ২০২৬ , ৬:২০:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনায় কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর সোমবার সকাল থেকে রোদের দেখা মিলেছে। মঙ্গলবার থেকে ঝলমলে রোদে কিছুটা কমতে শুরু করেছে হাওরের পানি। এতে স্বস্তি ফিরেছে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে। অনেকে কাটা ধান ও গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড় রাস্তাঘাট ও বাড়ির আঙিনায় ত্রিপল বিছিয়ে শুকাতে দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটতেও মাঠে নেমেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার বাহাদুরকান্দা এলাকার কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, “সোমবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ভালোই যাচ্ছে। সকাল থেকে কড়া রোদ উঠছে। ভেজা ধান ও খড় রাস্তায় শুকাতে দিয়েছি। এভাবে কয়েক দিন রোদ থাকলে ধান আর গরুর জন্য খড় শুকানো যাবে।”
বড়খাপন গ্রামের কৃষক জীবন সরকার বলেন, “গত চার দিন ভারী বৃষ্টি না থাকায় গুরাডোবা হাওরের পানি কিছুটা কমেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়া তিন কাঠা জমির ধান কেটেছি। টানা রোদ থাকলে আমাদের মতো কৃষকদের কিছুটা হলেও রক্ষা হবে।”
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় হালকা বৃষ্টি হলেও ভারী বৃষ্টি হয়নি। এতে কংস ও উব্দাখালী নদীর পানি কমেছে। তবে ধনু নদের পানি খালিয়াজুরি পয়েন্টে এখনও বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও এতে বন্যা বা হাওরের ধানখেতে নতুন কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন,”গত ৭২ ঘণ্টায় নেত্রকোনায় ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগামী তিন দিনে ভারী বৃষ্টি বা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ধনু নদ হয়ে মেঘনায় প্রবাহিত হওয়ায় এ নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে।”
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, জেলায় আবাদ করা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমির মধ্যে হাওরাঞ্চলে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অতিবৃষ্টির কারণে ১৮ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৭২ হাজার কৃষক পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। খালিয়াজুরি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান হেকিম বলেন,
“হাওরাঞ্চলের মানুষের একমাত্র ফসল বোরো ধান। এই ধানের ওপরই সারা বছরের সংসার চলে। এবার অতিরিক্ত বৃষ্টিতে হাওরের অর্ধেক খেতের ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। পানি আসার আগে ডিজেল সংকটের কারণে হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা যায়নি। পরে পানি চলে আসায় বেশি টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যায়নি।”
মোহনগঞ্জ উপজেলার খুরশিমুল গ্রামের কৃষক আলয় সরকার বলেন, “ডিঙাপোতা হাওরের অনেক ধান এখনও পানির নিচে। এখন কয়েক দিন রোদ থাকলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে।”




















