প্রতিনিধি ২২ জুন ২০২৬ , ১০:১১:৫৬ প্রিন্ট সংস্করণ
বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই দেখা গেছে একের পর এক অঘটন, চমক আর অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স। তবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী গল্পগুলোর একটি ঘটেছে মাঠের বাইরেই।
কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া, যিনি স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন, অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের মা আনা ক্যান্ডিদা এভোরার সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়েছেন।
স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক গোলশূন্য ড্রয়ের পর ভোজিনিয়া জানিয়েছিলেন, তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি দেখতে তার মা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেননি। ভিসা জটিলতা এবং আর্থিক প্রতিবন্ধকতার কারণে আনা ক্যান্ডিদার পক্ষে ছেলের খেলা সরাসরি দেখা সম্ভব হয়নি।
তার সেই আবেগঘন বক্তব্য মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ ভোজিনিয়ার প্রতি সমর্থন জানায়। অনেকেই তার বিনয়ী ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেন এবং এমন একজন মায়ের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন, যিনি ছেলের দীর্ঘ পথচলার অনুপ্রেরণা হলেও তার সবচেয়ে বড় মুহূর্তটি কাছ থেকে দেখতে পারেননি।
ম্যাচ-পরবর্তী একটি সাধারণ সাক্ষাৎকার খুব দ্রুতই বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত মানবিক গল্পগুলোর একটিতে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো যখন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করতে শুরু করে এবং পরিবারটির প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে, তখনই আসে সুখবর। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনা ক্যান্ডিদার যাত্রা সহজ করতে সহায়তা করে, যার ফলে তিনি অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে ছেলের পাশে দাঁড়াতে সক্ষম হন।
মা ও ছেলের পুনর্মিলনের সেই আবেগঘন মুহূর্ত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আলিঙ্গনরত দুজনের ছবি ও ভিডিও বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং অসংখ্য মানুষ এই আনন্দঘন মুহূর্ত উদযাপন করে।
আনা ক্যান্ডিদার জন্য এই সফর ছিল বিশেষ অর্থবহ। অবশেষে তিনি ছেলের বিশ্বকাপ যাত্রা সরাসরি দেখার সুযোগ পান। তিনি মিয়ামিতে উপস্থিত ছিলেন, যখন ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে কেপ ভার্দে উরুগুয়ের মুখোমুখি হয়। সেই ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়।
এই ঘটনা ভোজিনিয়ার জন্য ইতোমধ্যেই স্মরণীয় হয়ে ওঠা বিশ্বকাপকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক স্পেনের বিপক্ষে একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ করে বিশ্ব ফুটবলের নজর কেড়ে নেন। তার দৃঢ়তায় স্পেনের শক্তিশালী আক্রমণভাগও গোল করতে ব্যর্থ হয়, আর কেপ ভার্দে তুলে নেয় ঐতিহাসিক এক ড্র।
ফলাফলটি ছিল টুর্নামেন্টের প্রথম দিকের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি। আর সেই ম্যাচের পরই ভোজিনিয়া বিশ্বকাপ দর্শকদের কাছে পরিচিত এক নাম হয়ে ওঠেন।
তবে তার দুর্দান্ত গোলরক্ষণের পাশাপাশি মানুষের হৃদয় জয় করেছিল মাকে নিয়ে বলা আবেগময় কথাগুলোও। আর এখন সেই গল্পের সমাপ্তি হয়েছে আনন্দ, ভালোবাসা ও পুনর্মিলনের এক সুন্দর অধ্যায় দিয়ে।














