নওগাঁ প্রতিনিধি: ১১ আগস্ট ২০২৬ , ১:০০:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর মান্দায় অভিনব কায়দায় মানুষকে জিম্মি করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, অর্থ আদায় ও জোরপূর্বক ব্যাংক চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে কথিত ‘হানিট্রাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে সোমবার (১০ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মান্দা উপজেলার বড়পই গ্রামের তানজিমা খাতুন (৪৪), কুসুম্বা মোড় এলাকার শ্রী কনক কুমার (৩০) ও কুসুম্বা দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. সাজ্জাদ হোসেন (২৮)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মান্দা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে দাপ্তরিক কাজের কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন তানজিমা খাতুন। গত ৭ আগস্ট রাতে তিনি আলমগীরকে দেখা করার প্রস্তাব দেন। পরদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলমগীর কুসুম্বা মসজিদ এলাকায় গেলে তানজিমার সহযোগীরা তাকে একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, সেখানে চা ও সিগারেটের সঙ্গে চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তাকে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়। পরে পাশের একটি ঘরে নিয়ে তানজিমার সঙ্গে তাকে আপত্তিকর অবস্থায় দাঁড় করিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আলমগীরের কাছ থেকে নগদ ৬ হাজার ৭০০ টাকা ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয়। পরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলে স্বজনের মাধ্যমে ব্যাংকের চেকের বই আনান তিনি। এ সময় একটি চেক, একটি ফাঁকা চেক এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত রোববার (৯ আগস্ট) সকাল পৌনে ১১টার দিকে কনক কুমার ও সাজ্জাদ হোসেন অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, সতীহাট শাখা থেকে ওই চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে গেলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এ সময় ভুক্তভোগীর চেকটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সুমন ও ইসরাফিল নামে আরও দুই সহযোগী পালিয়ে যান। পরে অভিযান চালিয়ে তানজিমা খাতুনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মান্দা থানায় মামলা করেন।
এদিকে একই চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. ফায়জুল মোল্লাকে (৪৮) জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট পাওনা টাকা আদায়ের কথা বলে কনক কুমার ফায়জুলকে মোটরসাইকেলে তুলে নেন। পরে তাকে বাদলঘাটা গ্রামের একটি স্থানে নিয়ে নেশাজাতীয় পানীয় খাওয়ানোর পর আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। সেখানে তাকে মারধর করে ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চার লাখ টাকা দাবি করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভয়ভীতির কারণে ফায়জুলের স্ত্রী বিভিন্ন মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে ওই রাতেই চক্রের এক সদস্যকে দেন। এরপর আরও দুই লাখ টাকা দাবি করে তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ফায়জুল মোল্লা পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে মান্দা থানায় পৃথক মামলা করেন।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, দুটি ঘটনার পৃথক মামলা হয়েছে। প্রথম ঘটনায় ব্যাংক থেকে দুইজনকে আটক এবং পরে নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার তিনজনকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





















