প্রতিনিধি ৩ আগস্ট ২০২৫ , ১:১২:৫৪ প্রিন্ট সংস্করণ
মাসুম বিল্লাহ, শেরপুর (বগুড়া):
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাত্র ৫ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। বীরগ্রামের কালু মিয়ার বাড়ি থেকে পেংড়াপাড়া এবং খোট্টাপাড়া খেলার মাঠ থেকে দড়িমুকন্দ পর্যন্ত এই রাস্তার বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন আটটি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খোট্টাপাড়া, বীরগ্রাম, ভাদাইশপাড়া, রাজবাড়ী, বাঘমারা, হাতিগাড়া, কদিমুকন্দ ও পেংড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিদিনই এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে।
এই অঞ্চলের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি ও মৎস্য খামার হলেও রাস্তার দুরবস্থার কারণে কৃষিপণ্য ও মাছ সময়মতো বাজারে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ফলে চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রায় ৫০টি পুকুরে মাছচাষ হলেও পরিবহন সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খামারিরা। একইভাবে, এক হাজার একরের বেশি জমিতে ধান, আলু, মরিচ, পাটসহ নানা ফসল চাষ হলেও কৃষকরা উৎপাদিত ফসল পরিবহনে চরম অসুবিধায় পড়ছেন।
এই আটটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে হয় কর্দমাক্ত ও ভাঙা রাস্তায়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে একপ্রকার হতাশা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে মারাত্মক সংকট। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
খোট্টাপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ, ইসমাইল ও সোলাইমান বলেন, “আমরা স্মার্ট বাংলাদেশে বাস করি, কিন্তু এই রাস্তাটির কারণে সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে আছি। রাস্তা পাকা হলে আমরাও উন্নয়নের ধারা ধরতে পারতাম।”
বীরগ্রাম ও ভাদাইশপাড়ার বাসিন্দা কালু, রঞ্জু মিয়া ও রাইসুলসহ বেশ কয়েকজন বলেন, “অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলটির উন্নয়নের জন্য দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।”
মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জানান, “রাস্তাটির বিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।”
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, “রাস্তাটির জন্য নতুন একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আগামী বরাদ্দে অনুমোদন পাওয়া যাবে।”
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো অগ্রাধিকার পেলেও বাস্তব চিত্রে এখনো অনেক এলাকা অবহেলিত। বীরগ্রাম-পেংড়াপাড়া রাস্তাটির দ্রুত উন্নয়ন হলে শিক্ষাসহ কৃষি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে গতি আসবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।




















