প্রতিনিধি ১১ নভেম্বর ২০২৫ , ৯:৪১:৩২ প্রিন্ট সংস্করণ
জনপ্রশাসনে স্থবিরতা বেড়েছে। মাঠ প্রশাসনে অনভিজ্ঞ ও তদবিরপ্রবণ কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে প্রশাসনজুড়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে নতুন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্ক চরমে উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াতেও।
জনপ্রশাসন সূত্র জানায়, অতীত সরকারের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের তদবির ও চাপ সামলাতে না পেরে আপাতত পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। এতে ২০তম বিসিএস ব্যাচের শতাধিক কর্মকর্তা যুগ্ম সচিব পদে চার বছরের বেশি সময় পার করেও অতিরিক্ত সচিব হতে পারেননি। এর ফলে প্রশাসনে ক্ষোভ, হতাশা ও কাজের অনীহা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
পদোন্নতির নিয়ম অনুযায়ী কর্মকর্তার অভিজ্ঞতা, কর্মদক্ষতা ও সততা বিবেচনা করে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) সিদ্ধান্ত নেয়। তবে মাঠপর্যায়ে রিপোর্ট, দুর্নীতি দমন কমিশনের মতামত এবং বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগের কারণে ২০তম ব্যাচের বেশ কিছু কর্মকর্তা তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবের অনুমোদিত পদ ৪১৮টি। এর মধ্যে ৩৬৫ জন কর্মরত থাকলেও ৮৮টি পদ শূন্য। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, আগামী জুন নাগাদ শূন্য পদ দাঁড়াবে ১৫৮টিতে। এতে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকছে। একজন অতিরিক্ত সচিব দুই বা ততোধিক অনুবিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন।
বিগত তিন বছরে দুই শতাধিক অতিরিক্ত সচিব অবসরে গেছেন, আগামী বছর অবসরে যাবেন আরও ৭০ জন। ফলে প্রশাসনে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে।
অন্যদিকে গত দুই দিনে ২৯ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে শনিবার রাতে ১৫ জেলা ও রবিবার ১৪ জেলায় নতুন ডিসি পদায়ন করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এ নিয়োগকে অনেকেই ‘নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রশাসনিক রদবদল’ বলে মনে করছেন।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিঞা বলেন, “নির্বাচনের আগে প্রশাসনে স্থিতিশীলতা জরুরি। কিন্তু বর্তমানে দক্ষতার চেয়ে আনুগত্যকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা দুই-ই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধানে গঠিত প্রশাসন মন্ত্রণালয় আশ্বাস দিয়েছে—নির্বাচনকালে পদায়ন ও পদোন্নতিতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হবে। তবে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতির বিলম্ব প্রশাসনের মনোবল ও কার্যক্ষমতা দুটোই কমিয়ে দিচ্ছে।





















