তানভীর সরদার, স্টাফ রিপোর্টার: ১০ মার্চ ২০২৬ , ১:৩৪:৩২ প্রিন্ট সংস্করণ
ঝিনাইদহে বাসে অগ্নিসংযোগ ও তেল পাম্পে ভাঙচুরের অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার গভীর রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে সোমবার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ঝিনাইদহ জেলা ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, সদস্য সচিব আশিকুর রহমান জীবন, যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ আহমেদ অন্তর, কেন্দ্রীয় যুব শক্তির সদস্য তাশদীদ হাসান, রাসেল হুসাইন ও হুমায়ুন কবির।
এদিকে আটক নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের মধ্যরাত থেকে ডিবি কার্যালয়ে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে আদালতে নেওয়ার সময় প্রিজন ভ্যানে ওঠার মুহূর্তে তারা সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিৎকার করে এসব অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক প্রেস নোটে জানানো হয়, সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং অনেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য ফারদিন আহমেদ নিরব ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে যান। এ সময় পাম্পের কর্মচারীদের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। আহত অবস্থায় তিনি মেসে ফিরে যান। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার জেরে শনিবার রাতেই তিনজনকে আটক করে পুলিশ। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিকানাধীন আরাপপুর সৃজনী ফিলিং স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রাত সোয়া ৩টার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
এ ঘটনায় রোববার বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মো. সাইফ নোমান এবং ফিলিং স্টেশন ভাঙচুরের ঘটনায় শামসুল কবির মিলন বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।
তবে গ্রেফতার হওয়া ছাত্র নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় তারা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের ফাঁসানো হয়েছে। যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার সঙ্গে আমরা জড়িত নই। তেল পাম্পে ভাঙচুর ও বাসে আগুন দেওয়ার সময় আমরা সদর থানার ওসির সঙ্গে থানায় বসে ছিলাম।”
এ সময় তারা থানার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান। পাশাপাশি আটকের পর পুলিশ সদস্যরা তাদের গালিগালাজ ও নির্যাতন করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
গ্রেফতারকৃতরা আরও অভিযোগ করেন, তাজ ফিলিং স্টেশনের কর্মীদের হামলায় ছাত্র নিহতের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাদের দাবি, সৃজনী ফাউন্ডেশনের মালিক প্রভাব খাটিয়ে এ ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
পরে গ্রেফতারকৃতদের ঝিনাইদহ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাহ হোসেন বলেন, বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সাতজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে যা প্রমাণ রয়েছে তা আদালতেই উপস্থাপন করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পাশে তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে হামলার শিকার হন শিক্ষার্থী ফারদিন আহমেদ নিরব। তিনি ঝিনাইদহের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য ছিলেন। তাজ ফিলিং স্টেশন ও সৃজনী ফিলিং স্টেশনের মালিক ব্যবসায়ী হারুণ অর রশিদ, যিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।














