সারাদেশ

সাতক্ষীরায় তীব্র পানি সংকট, চরম ভোগান্তিতে পৌরবাসী

  বরুণ ব্যানার্জী , সাতক্ষীরা ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৫:৫৪:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ


সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইনে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শহরের ৯টি ওয়ার্ডের হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। খাবার পানি তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও পানি মিলছে না।

শহরের ইটাগাছা, কামালনগর, রসুলপুর, মুনজিতপুর, দক্ষিণ কাটিয়া, লস্করপাড়া ও মাস্টারপাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে পানির জন্য হাহাকার চলছে। গৃহিণীরা খালি কলস ও বালতি নিয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছুটছেন। অনেক পরিবার ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে প্রতি ড্রাম পানি কিনে দৈনন্দিন কাজ চালাচ্ছেন।

বিশেষ করে ১, ৩, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। কয়েক মাস ধরে এসব এলাকার বাসিন্দারা নিয়মিত পানি পাচ্ছেন না। ফলে গোসল, শৌচাগার ব্যবহারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

কাটিয়া মাস্টারপাড়া এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “কয়েক মাস ধরে পানির জন্য চরম কষ্টে আছি। আগে মাঝে মাঝে পানি পাওয়া গেলেও এখন সেটাও বন্ধ।”

সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা হালিমাতুজ সাদিয়া বলেন, “সারাদিন শুধু পানির চিন্তা করতে হয়। কলেও পানি নেই, টিউবওয়েলের পানিও ব্যবহারযোগ্য নয়।”

সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলী নূর খান বলেন, “অপরিকল্পিতভাবে পুকুর ভরাট করে আবাসন নির্মাণ করায় সংকট আরও বেড়েছে। মানুষ বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহার করছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।”

পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ লিটার। সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৬০ লাখ লিটার, যা চাহিদার অর্ধেকেরও কম। ১৮টি পাম্পের মধ্যে কয়েকটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল রয়েছে।

পৌরসভার পানি সরবরাহ শাখার দায়িত্বশীলরা জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানি উৎপাদন কমেছে। বিকল পাম্প মেরামত ও নতুন মোটর স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে একই সংকট দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত গভীর নলকূপ স্থাপন, পানি শোধনাগার চালু এবং জরুরি ভিত্তিতে ট্যাংকারের মাধ্যমে পানি সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।

পানি সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও খবর

Sponsered content