প্রতিনিধি ২৩ এপ্রিল ২০২৬ , ৫:৪৪:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম ভরসা দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত কয়লা মজুত থাকার পরও ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের উৎপাদনই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ আছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ২ মিনিটে কেন্দ্রটির শেষ সক্রিয় ইউনিটে কয়লার সঙ্গে বড় পাথর এসে বয়লারের টিউব ফাঁটিয়ে ফেলে। এর ফলে ১ নম্বর ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এ ইউনিটে নামমাত্র ৫০-৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। ফলে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের সবকটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় দেখা দিয়েছে মারাত্মক বিদ্যুৎ বিভ্রাট।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে। প্রাথমিকভাবে দুটি ১২৫ মেগাওয়াট ইউনিট নিয়ে শুরু হলেও ২০১৭ সালে আরেকটি ২৭৫ মেগাওয়াট ইউনিট যুক্ত হয়ে মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়। তবে নানা যান্ত্রিক জটিলতায় কেন্দ্রটি কখনই একসঙ্গে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারেনি।
বর্তমান পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, কারণ ৩য় ইউনিট (২৭৫ মেগাওয়াট) ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ। ২য় ইউনিট (১২৫ মেগাওয়াট) ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। ১ম ইউনিট (১২৫ মেগাওয়াট) গত ৩০ ডিসেম্বর বন্ধ হয়ে ১৪ জানুয়ারি চালু হলেও ২২ এপ্রিল পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়।
অথচ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হয়েছিল স্থানীয় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে। তবে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকায় খনির কয়লা অব্যবহৃত থেকে ইয়ার্ডে মজুদ বাড়ছে। অর্থাৎ একদিকে বিদ্যুৎ ঘাটতি, অন্যদিকে সম্পদের অপচয়-দুই সমস্যাই পাশাপাশি বাড়ছে।
বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, তাপবিদুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি বুধবার রাতে কয়লার সঙ্গে বড় বড় পাথর এসে কয়লার মিলে পড়ে বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মেরামত কাজ শুরু করেছি। ৪-৫ দিনের মধ্যেই এই ইউনিটটি মেরামত শেষে উৎপাদনে যাবে বলে আশা করা যায়।’
গত বছরের ১ নভেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিটটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কবে শুরু করা সম্ভব হবে এমন প্রশ্নের জবাবে আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আগামী মে মাসের মাঝা-মাঝি সময় থেকে ওই ইউনিট উৎপাদনে যাবে।
এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) খান মো. জাফর সাদিক বলেন, বর্তমানে কয়লা খনি ইয়ার্ডে পর্যাপ্ত কয়লা মজুদ আছে। যা ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত। অর্থাৎ কয়লা খনি ইয়ার্ডে বর্তমান মজুদ ৫ লাখ ৭২ হাজার টন কয়লা মজুদ রয়েছে।




















