সারাদেশ

অনুমোদন পেল সিলেটের ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল, শিগগিরই চালুর আশা

  সিলেট প্রতিনিধি: ১৬ জুন ২০২৬ , ১:২৭:১২ প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার প্রহর গোনা সিলেটের ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল অবশেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন পেয়েছে। এর ফলে প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা হাসপাতালটি শিগগিরই চালু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১৫ জুন) হাসপাতালটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বিষয়টি বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে নিশ্চিত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আজ সিলেটের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবার অধিকতর সুযোগ পাবে।”

তিনি আরও বলেন, “সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এই উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। সিলেটের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক।”

নগরের চৌহাট্টা এলাকায় প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটির কাজ ২০২৩ সালে শেষ হলেও এতদিন এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে ছিল।

গত ৩১ মে সিলেট সফরে এসে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হাসপাতালটি দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন। তিনি জানান, সিলেটে শিগগিরই ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। পাশাপাশি সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১২০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এর আগে গত ২০ এপ্রিল হাসপাতালটি পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, “শত কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হলেও এটি পরিচালনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় ছিল না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করা হবে।”

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৬ দশমিক ৯৮ একর জমির ওপর হাসপাতালটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ২০২০ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের ভবন নির্মাণ, রং, বৈদ্যুতিক কাজ, টাইলস, গ্লাস, দরজা-জানালাসহ অবকাঠামোগত সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়নি।

জানা গেছে, হাসপাতালটি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিভিল সার্জন কার্যালয় নাকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে দীর্ঘদিন সিদ্ধান্ত না হওয়ায় এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে গণপূর্ত বিভাগ বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগও করে।

হাসপাতালের ১৫ তলা ভবনের মধ্যে বর্তমানে আটতলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বেসমেন্টে রয়েছে কার পার্কিং ব্যবস্থা। প্রথম তলায় টিকিট কাউন্টার ও ওয়েটিং রুম, দ্বিতীয় তলায় আউটডোর ও কনসালট্যান্ট চেম্বার, তৃতীয় তলায় ডায়াগনস্টিক বিভাগ, চতুর্থ তলায় কার্ডিয়াক ও জেনারেল অপারেশন থিয়েটার, আইসিসিইউ ও সিসিইউ, পঞ্চম তলায় গাইনি, চক্ষু, অর্থোপেডিক ও নাক-কান-গলা বিভাগ এবং ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম তলায় ওয়ার্ড ও কেবিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

হাসপাতালটিতে ১৯টি আইসিইউ বেড, ৯টি সিসিইউ বেড এবং ৪০টি কেবিন রয়েছে।

এদিকে গত ২ মে সিলেট সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দ্রুততম সময়ে হাসপাতালটি চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন। অনুমোদন পাওয়ার মধ্য দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও খবর

Sponsered content