সারাদেশ

পদ্মার চরে ‘কাকন বাহিনী’ নিয়ে আতঙ্ক, দমনে চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের

  রাজশাহী প্রতিনিধি: ১৭ জুন ২০২৬ , ১২:০২:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বিস্তীর্ণ পদ্মা চর এলাকায় সক্রিয় একাধিক সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ‘কাকন বাহিনী’কে সবচেয়ে প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব, বিপুল অর্থনৈতিক সক্ষমতা, দুর্গম চরাঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বাহিনীটি এলাকায় আধিপত্য বজায় রেখে চলেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা চরাঞ্চলে বালুমহাল, জমি দখল এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় অপরাধীরা সহজেই এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় সরে গিয়ে আত্মগোপন করতে সক্ষম হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় ২৫ বছর আগে কাকন বাহিনীর উত্থান ঘটে। ২০০৫ সালে র‌্যাবের অভিযানের পর বাহিনীটির কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য স্তিমিত হলেও পরে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও চোরাচালান থেকে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে বাহিনীটি নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বাহিনীটির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ বা মামলা করতে অনেকেই সাহস পাননি। তবে ২০২৪ সালের আগস্টের পর কয়েকটি ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং র‌্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনী একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে।

গত ১৭ জুলাই ২০২৫ সালে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানের পর বিভিন্ন মহলে প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের সঙ্গে বাহিনীটির যোগাযোগ ও মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কাকন বাহিনী শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে অভিযুক্ত রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “পুলিশ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা পদ্মা চরাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content