খেলাধুলা

বিশ্বকাপ এমনটি আগে কখনো দেখেনি

  প্রতিনিধি ১৩ জুলাই ২০২৬ , ১০:৪৪:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ফুটবল বিশ্বের চার পরাশক্তি—আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড। ১৯৯২ সালে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং চালুর পর এই প্রথম বিশ্বের শীর্ষ চার দলই একসঙ্গে বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা করে নিল। ফলে ফুটবলপ্রেমীদের সামনে অপেক্ষা করছে ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় সেমিফাইনাল।

মঙ্গলবার টেক্সাসের আরলিংটনে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন। আর বুধবার আটলান্টায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

১৯৯০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ চারটি দলই আগের কোনো না কোনো সময় বিশ্বকাপ জিতেছে। সেবারও শেষ চারে ছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড, যদিও তাদের মুখোমুখি হওয়া হয়নি। বর্তমান আসরে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা জিতলে ২০২২ সালের মতো আবারও একই দুই দলকে ফাইনালে দেখা যাবে।

আর্জেন্টিনা–ইংল্যান্ড: ইতিহাস আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায়

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই শুধু ফুটবলের নয়, বহু বছরের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতারও প্রতীক।

১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে দুই দলের উত্তেজনাপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাত্তিনকে মাঠ ছেড়ে চলে যেতে বলেন রেফারি। সেই ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের কোচ নিজের খেলোয়াড়দের প্রতিপক্ষের সঙ্গে জার্সি বদলাতেও নিষেধ করেছিলেন।

এর দুই দশক পর ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘ঈশ্বরের হাত’ গোল আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেয়। সেই বিশ্বকাপেই শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা।

১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ড এবং টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডের হার দুই দেশের দ্বৈরথকে আরও তীব্র করে তোলে। তবে ২০০২ সালে পেনাল্টি থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে জয় এনে প্রতিশোধ নেন বেকহাম।

এবারের সেমিফাইনাল আরও বিশেষ, কারণ এটি হবে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ।

৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মেসি যদি আর্জেন্টিনাকে আবারও বিশ্বকাপ জেতাতে পারেন, তাহলে দেশের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ জয় করে তিনি ম্যারাডোনাকেও ছাড়িয়ে যাবেন। একই সঙ্গে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তিও গড়বে আর্জেন্টিনা।

ফ্রান্স–স্পেন: দুই ইউরোপীয় শক্তির আরেক মহারণ

অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও স্পেন। দুই বছর আগে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালেও দেখা হয়েছিল তাদের। সেবার ১৬ বছর বয়সী লামিন ইয়ামালের গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিল স্পেন।

তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। পুরো আসরে সবচেয়ে দাপুটে ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে তাদের আক্রমণভাগ ছিল বিধ্বংসী। অন্যদিকে ইনজুরির কারণে শুরুতে কিছুটা সমস্যায় পড়লেও স্পেন শেষ দুই ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোলে জয় তুলে নিয়ে শেষ চারে উঠেছে।

গোল্ডেন বুটের লড়াইও জমে উঠেছে

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইও এখন তুঙ্গে।

লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে সমান ৮ গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। নরওয়ের বিদায়ের ফলে ৭ গোল করা আরলিং হলান্ড আর এই দৌড়ে নেই। ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের গোল সংখ্যা ৬, আর উসমান দেম্বেলের রয়েছে ৫ গোল। স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবালের ঝুলিতে রয়েছে ৪ গোল।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইটাও জমে উঠেছে। মেসির গোল সংখ্যা এখন ২১, আর এমবাপ্পের ২০।

সব মিলিয়ে ইতিহাস, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তারকাদের দ্বৈরথ এবং শিরোপার স্বপ্ন—সবকিছু মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ফুটবলপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে এক স্মরণীয় অধ্যায়।

আরও খবর

Sponsered content