প্রতিনিধি ২১ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:০২:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতে বিরোধী দল ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ বন্ধ করতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ২৪ জন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ভারতের কর্তৃপক্ষের ভূমিকা তদন্তের আহ্বান জানান। তাদের ভাষ্য, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকে আহত হয়েছেন। কেউ কেউ দুর্ব্যবহার ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিক্ষোভকারীরা আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিক্ষোভ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আটকাদেশের সময় যৌন সহিংসতা ও লিঙ্গভিত্তিক নিপীড়নের অন্যান্য অভিযোগ নিয়েও বিশেষজ্ঞরা বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।’
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ নির্দিষ্ট মানবাধিকার সংকট পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করার জন্য এসব বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়। তবে তারা জাতিসংঘের নিজস্ব কর্মকর্তা নন; স্বাধীনভাবে কাজ করেন।
ভারতে চলতি মাসে বিরোধী দল ককরোচ জনতা পার্টি, অন্যান্য বিরোধী দল ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এসব বিক্ষোভ চলছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ফলে দরিদ্র, গৃহহীন এবং মুসলিমসহ বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের দাবি, এসব জনগোষ্ঠীর মানুষের ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
তবে ভারতীয় জনতা পার্টি ও দেশটির নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, দ্বৈত নাম, মৃত ব্যক্তি, স্থানান্তরিত ভোটার এবং অন্যভাবে অযোগ্য ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। ভুলবশত কারও নাম বাদ পড়লে তিনি আপিল করতে পারবেন।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘সমাবেশগুলো শান্তিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পুলিশের লাঠিচার্জও রয়েছে। পাশাপাশি হাজারো মানুষকে বিক্ষোভে যোগ দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।’
লাঠিচার্জ বলতে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের সমন্বিতভাবে লাঠি ব্যবহারের কৌশলকে বোঝায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ‘আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করা, নির্বিচারে সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা এবং জৈবিক পরিচয় শনাক্তকরণসহ ডিজিটাল নজরদারির অপব্যবহার ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
ভারত সরকার এর আগেও এ ধরনের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে একে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আটকের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ভারত একই অবস্থান নিয়েছিল।





















