প্রতিনিধি ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ৬:৪৮:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ
১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের দুর্নীতির মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহদের বিরুদ্ধে আরও ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আজ বুধবার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আব্দুল্লাহ আল মামুন সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
সাক্ষীরা হলেন— কমিউনিটি ব্যাংকের হেড অফিসের এফএভিপি মোহাম্মদ শাহরিয়ার চৌধুরী, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকেরএক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান, প্রাইম টাওয়ারের এসইভিপি এবং হেড অব. আইসিসিডি মোহাম্মদ আব্দুর রহমান, এনআরবি ব্যাংকের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাস অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগের এসইভিপি উদয় শংকর চাকী, স্টার্ন ব্যাংকের অফিসারমো. ফয়সাল ভূঞা পিয়াস, দুর্নীতি দমন কমিশনের অফিস সহায়ক মো. রফিকুল ইসলাম, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়সাল কবির, গণপূর্ত ই/এম বিভাগের স্টাফ অফিসার ও নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাজেদুল ইসলাম, উপ প্রকৌশলী নাহিদ হাসান লিজন, ঢাকা বোর্ড ক্লাবের সাবেক জয়েন্ট সেক্রেটারি ক্যাপ্টেন মেহেদী হাসান তুষার (অব) এবং এসপিবিএন এর ডিআইজি ডা. শোয়েব রিয়াজ আলম।
এদিন এদের সাক্ষ্য শেষে আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন আদালত। দুদক প্রসিকিউটর মীর আহাম্মদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে মামলাটিতে ৩৬ জনের সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্য শেষ হলো। ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীরের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে চার্জশিট দাখিল করেন হাফিজুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগ পত্রে বলা হয়— বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে।বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।অভিযোগ পত্রে আরও বলা হয়েছে, “বেনজীর আহমেদ এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।
গত ৮ মার্চ মামলার চার্জশিট আমলে গ্রহণ করে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত ৩ মে তার বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত ।















