প্রতিনিধি ৩ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৪৭:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ
অতিরিক্ত ওজন কমাতে অনেকেই কঠোর ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়ামের আশ্রয় নেন। কাঙ্ক্ষিত ওজন অর্জনের পর শরীর যেমন ছিপছিপে দেখায়, তেমনি অনেকের ক্ষেত্রে দেখা দেয় নতুন একটি সমস্যা চামড়া ঢিলে হয়ে যাওয়া। বিশেষ করে বাহু, পেট, উরু ও ঘাড়ের ত্বক ঝুলে পড়লে অস্বস্তিতে পড়েন অনেকেই।
কেন ঝুলে যায় ত্বক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা মূলত কোলাজেন ও ইলাস্টিন নামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের ওপর নির্ভর করে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ওজন থাকলে ত্বক প্রসারিত হয়। পরে দ্রুত ওজন কমে গেলে সেই প্রসারিত ত্বক আগের অবস্থায় সহজে ফিরতে পারে না। ফলে ত্বক ঢিলে হয়ে যায়। এ ছাড়া বয়স, কত দ্রুত ওজন কমানো হয়েছে, কতটা ওজন কমেছে, বংশগত বৈশিষ্ট্য এবং পেশির অবস্থা এসব বিষয়ও ত্বক ঝুলে পড়ার ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে।
কীভাবে কমানো যায় এই সমস্যা?
রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং করুন
শুধু কার্ডিও নয়, ওজন কমানোর পাশাপাশি রেজিস্ট্যান্স বা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করলে পেশি শক্তিশালী হয়। এতে শরীরের গঠন সুন্দর থাকে এবং ত্বক ঝুলে পড়ার আশঙ্কাও কমে।
কোলাজেন তৈরিতে সহায়ক খাবার খান
ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি শরীরে কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণও ত্বক ও পেশির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
ধীরে ধীরে ওজন কমান
খুব অল্প সময়ে অনেক ওজন কমানোর চেষ্টা করলে ত্বক আলগা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বিশেষজ্ঞরা ধাপে ধাপে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ওজন কমানোর পরামর্শ দেন।
প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
যাদের ত্বক অতিরিক্ত ঝুলে গেছে, তারা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা কসমেটিক সার্জনের পরামর্শ নিতে পারেন। বর্তমানে অস্ত্রোপচার ছাড়াও কিছু আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে ত্বকের দৃঢ়তা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। তবে এসব চিকিৎসা নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি।
স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই সবচেয়ে কার্যকর
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ধীরে ধীরে ওজন কমানোর পরিকল্পনা অনুসরণ করলে শুধু ওজনই নিয়ন্ত্রণে থাকে না, ত্বকের স্থিতিস্থাপকতাও অনেকাংশে বজায় রাখা সম্ভব।





















