খেলাধুলা

এশিয়ার সমর্থনে ফিফা প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে আরও এগিয়ে ইনফান্তিনো

  প্রতিনিধি ২৪ অক্টোবর ২০২৬ , ২:০৭:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) প্রধান তার প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন জানানোর পর বিরোধিতার ক্ষেত্রে ক্রমেই একঘরে হয়ে পড়ছে ইউরোপ। একই সঙ্গে ইনফান্তিনোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো গ্রহণযোগ্য প্রার্থীর অভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার টোকিওতে এএফসির বিশেষ কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানান সংস্থাটির সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। তার এই ঘোষণাকে ইনফান্তিনোর সঙ্গে সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য পুনর্মিলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব ব্যবস্থাপনার জন্য বেসরকারি বিনিয়োগে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন শেখ সালমান। বিশ্বকাপসহ ফিফার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আনা ওই প্রস্তাব নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থার সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিন এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থার প্রধান ভিক্টর মন্তালিয়ানি তাঁর সঙ্গে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

তাদের প্রকাশ্য বিরোধিতার পর ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিও ওঠে। এতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল, ফিফা সভাপতির দীর্ঘদিনের শক্তিশালী সমর্থনভিত্তিতে ফাটল ধরতে শুরু করেছে কি না।

কিন্তু মাত্র দুই মাস আগে প্রস্তাবিত উদ্যোগের কারণে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘আস্থার মৌলিক লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তোলা এশীয় ফুটবল কনফেডারেশন এবার জানাল, এশিয়া ঐক্যবদ্ধভাবে তার পাশে রয়েছে।

এই অবস্থান পরিবর্তনের ফলে আগামী মার্চের নির্বাচনে ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীর জন্য পথ আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

এএফসির সদস্যসংখ্যা ৪৭। তবে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য সদস্যদেশের সংখ্যা ৪৬। দেশের আয়তন কিংবা ফুটবলে অতীত সাফল্য যা-ই হোক, ফিফার নির্বাচনে প্রতিটি সদস্যদেশের ভোটের মূল্য সমান।

আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের ৫৪টি সদস্যদেশের সমর্থন আগেই নিশ্চিত করেছেন ইনফান্তিনো। ফিফা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পুরো সময়জুড়েই আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে।

দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনের ভোট মাত্র ১০টি। তবে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিতে তারা যোগ দেয়নি। ওশেনিয়ার অধিকাংশ সদস্যদেশও তার পক্ষেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থাটি শুরুতে ইউরোপ ও এশিয়ার সঙ্গে ইনফান্তিনোর সমালোচনা করেছিল। তবে বর্তমানে সংস্থাটির সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। মেক্সিকোর মতো প্রভাবশালী দেশ বর্তমান সভাপতির পক্ষে রয়েছে।

কনফেডারেশনগুলোর সমর্থন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সদস্যদেশগুলোকে কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করে না। তবে এশিয়া, আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে ইনফান্তিনোর সমর্থন তাকে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে। আগামী ১৮ নভেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে ফিফার ২১১ ভোটারের মধ্যে তার অবস্থান বেশ সুবিধাজনক।

এ অবস্থায় বিরোধিতার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা, যার সদস্যসংখ্যা ৫৫। কিন্তু ইউরোপের সব দেশ একজোট হয়ে বিকল্প প্রার্থীকে সমর্থন করলেও মোট ভোটের এক-চতুর্থাংশের সামান্য বেশি পাওয়া সম্ভব।

ইনফান্তিনোর সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা। বাতিল হয়ে যাওয়া বেসরকারি বিনিয়োগভিত্তিক প্রকল্প এবং ফিফার বৃহত্তর পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে তারা এখনও ব্যাখ্যা চাইছে।

তবে ইউরোপ এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনোর বিপক্ষে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রার্থী সামনে আনতে পারেনি। ফুটবলের প্রচলিত ক্ষমতাকেন্দ্রের বাইরেও জোট গড়ে তোলার দক্ষতা ইনফান্তিনোর শক্তির অন্যতম ভিত্তি। সেই কারণে তার বিরোধিতায় ইউরোপ ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের বিষয়বস্তু এবং সেটি উপস্থাপনের পদ্ধতি—দুই বিষয় নিয়েই আপত্তি জানিয়েছিলেন শেখ সালমান, চেফেরিন ও মন্তালিয়ানি।

গত সপ্তাহে জুরিখে ফিফা কাউন্সিলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রকল্পটি বাতিল করেন ইনফান্তিনো। একই সঙ্গে বিষয়টি যেভাবে সামলানো হয়েছিল, সে জন্য ক্ষমাও চান তিনি।

তার এই ক্ষমা ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর অবস্থান বদলাতে পারেনি। তবে টোকিওতে শেখ সালমান জানান, ইনফান্তিনো ও তার মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এখন তাদের ‘সামনে এগিয়ে যাওয়া’ উচিত।

ইনফান্তিনোর দ্রুত প্রকল্প থেকে সরে আসা এবং প্রতিটি সদস্য সংস্থাকে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক মেরামতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফিফা সভাপতি হওয়ার পর গত ১০ বছরে প্রতিটি সদস্য সংস্থার জন্য বরাদ্দ ১০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারে উন্নীত করেছি—বিশ্বের সব অঞ্চলের জন্যই।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক মাসে ফিফার ২১১টি সদস্য সংস্থার মধ্যে তহবিল কীভাবে বণ্টন করা হবে, সে বিষয়ে যারা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ, আমাদের ঐক্যের চেতনা নিয়ে এবং ফুটবলের সর্বোত্তম স্বার্থে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’

শেখ সালমানের সমর্থন ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পথে যে সংকট জটিলতা তৈরি করতে পারত, তা এখন পর্যন্ত তার রাজনৈতিক সমর্থনে দীর্ঘস্থায়ী কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।

ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা দ্রুত এমন কোনো প্রার্থী সামনে আনতে না পারলে, যিনি ইউরোপের বাইরেও সমর্থন আদায় করতে সক্ষম, তাহলে আগামী নির্বাচন ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে ভোটারদের ওপর তার অব্যাহত নিয়ন্ত্রণের প্রদর্শনী হয়ে ওঠার সম্ভাবনাই বেশি।

আরও খবর

Sponsered content