সারাদেশ

কিশোরগঞ্জে ইউএনওর বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি পারিবারিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ

  কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:১০:০১ প্রিন্ট সংস্করণ

 

কিশোরগঞ্জ উপজেলা-এর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া-এর বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর ব্যবহারিক সরকারি গাড়িসহ একাধিক সরকারি যান পারিবারিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সকালে ইউএনও তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া তার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি লাল রঙের গাড়ি নিয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভায় অংশ নেন। একই দিন বেলা আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ সরকারি গাড়িটি ইউএনও’র স্বামী চালকসহ নিয়ে সৈয়দপুরের দিকে রওনা দেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর গাড়িটি পুনরায় কিশোরগঞ্জের দিকে ফিরে আসে।

এছাড়া একই দিন বিকেলে ওই সরকারি গাড়িতে করেই ইউএনও’র স্বামী সৈয়দপুর বিমানবন্দর-এ যান বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে উপজেলা পরিষদের জন্য বরাদ্দকৃত আরেকটি সরকারি গাড়িকেও বিভিন্ন স্থানে চলাচল করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকায় ওই গাড়িটিও বর্তমানে ইউএনও ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় তার দায়িত্বও ইউএনও সোহানিয়া পালন করছেন। ফলে ইউএনও’র নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে তিনটি সরকারি গাড়ি রয়েছে—ইউএনও’র নিজস্ব ব্যবহারিক গাড়ি, উপজেলা পরিষদের গাড়ি এবং এসিল্যান্ডের গাড়ি। অভিযোগ উঠেছে, এসব গাড়ি ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি তেল পারিবারিক কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউএনও সোহানিয়ার স্বামী ছুটিতে কিশোরগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। ছুটি শেষে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি এসিল্যান্ডের সরকারি গাড়ি নিয়ে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে মাঝপথে তারাগঞ্জ উপজেলা এলাকা থেকে ফিরে আসেন। পরে বিকাল ৫টার দিকে আবারও ওই গাড়িতে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে গিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এরপর গাড়িটি পুনরায় কিশোরগঞ্জে ফিরে আসে।

প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা কেবল সরকারি দায়িত্ব ও প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন। পারিবারিক প্রয়োজনে কিংবা পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য সরকারি যান ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

এদিকে নতুন সরকার গঠনের পর ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা সরকারি গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহার সীমিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে একাধিক সরকারি গাড়ি পারিবারিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগে ইউএনও’র বিরুদ্ধে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ মন্তব্য করছেন, প্রভাবশালী পরিচয় ও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ থাকায় তিনি সরকারি গাড়িকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের মতো ব্যবহার করছেন কি না—সে প্রশ্নও উঠেছে।

এসিল্যান্ডের গাড়ির চালক নুর ইসলাম এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “এসব বিষয় বাদ দেন।” তবে তিনি গাড়িটি ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে ইউএনও তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সরকারি গাড়ি পারিবারিক কাজে ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। এসিল্যান্ডের গাড়িটিও আমার পারিবারিক কাজে ব্যবহার হয়নি।” পরবর্তীতে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখে তিনি গাড়িটি ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “গাড়িটি তো জেলার বাইরে যায়নি।”

এ প্রসঙ্গে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “সরকারি গাড়ি পারিবারিক কাজে ব্যবহারের কোনো নিয়ম নেই। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলাবাসী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও খবর

Sponsered content