রাজনীতি

খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক ঘোষণা করলেন ১৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার

  প্রতিনিধি ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৬:১২:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে দশ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মামুনুল হক নিজ দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের১৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসনের সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ ও আচরণবিধি প্রতিপালন ঘোষণার অনুষ্ঠানে তিনি এসব দফা তুলে ধরেন।

খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, আমাদের ইশতেহারে দুর্নীতি দমন,সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল, নারী ও সংখালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, কিশোর গ্যাং সংশোধনসহ সামাজিক অবক্ষয় রোধে বিশেষ গুরুত্ত্ব দেওয়া হয়েছে

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইশতেহারের মূল দফাসমূহ

ঘোষিত কর্মপরিকল্পনায় দুর্নীতিমুক্ত ঢাকা-১৩ তথা বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। ভূমি, ট্রেড লাইসেন্স ও জন্মনিবন্ধনসহ সব সেবায় ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করে দালালচক্র উচ্ছেদ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট, ঠিকাদার ও অগ্রগতি জনসম্মুখে প্রকাশের কথা বলা হয়েছে।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং কিশোর গ্যাং সংশোধনের উদ্যোগের কথা রয়েছে। সংশোধন না হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়।

নিরাপদ জনপথ নিশ্চিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি, সড়কবাতি ও পুলিশি টহল জোরদার, বাজার ও টার্মিনালে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং টেন্ডারবাজি ও রাজনৈতিক চাঁদাবাজি বন্ধের পরিকল্পনা রয়েছে।

যানজট নিরসনে অসমাপ্ত সড়ককাজ দ্রুত শেষ, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, অবৈধ নির্মাণসামগ্রী অপসারণ, সড়ক দ্বীপে সবুজায়ন, বেড়িবাঁধে এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগ ও মেট্রোরেল সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে রামচন্দ্রপুর খালসহ সব খাল অবমুক্ত করে সমন্বিত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ‘এক ছাতার নিচে সব সেবা’ নীতিতে লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজীকরণ, স্থানীয় শিল্প ও ক্ষুদ্র কারখানা সহায়তা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

শিক্ষা খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন, আধুনিক ল্যাব স্থাপন, কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু এবং বেদখল মাঠ পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের টেকসই সমাধানে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় দুর্নীতি দূর করে ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত এবং বৈষম্য রোধের কথা বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও নাগরিক সেবায় সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক-নার্স সংকট নিরসন, আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা, টিসিবি ও ভাতা বিতরণে অনিয়ম বন্ধ এবং জেনেভা ক্যাম্প ও বস্তিবাসীর পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির অংশ হিসেবে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক অবক্ষয় রোধের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

সংস্কৃতি ও নাগরিক স্বাধীনতার বিষয়ে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালনে স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় দিবসগুলো সার্বজনীন অংশগ্রহণে উদযাপনের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

নারীর অধিকার ও শিশুর বিকাশে নারী নিরাপত্তায় সিসিটিভি ও হটলাইন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে নারীর কর্মসংস্থান, শিশুশ্রম বন্ধ, ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং পতিতা ও হিজড়াদের সামাজিক-অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

সবশেষে শহীদ ও বীরদের সম্মান, ভাতা ও অধিকার নিশ্চিত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন এবং নিয়মিত জনতার সঙ্গে সংলাপ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

 

আরও খবর

Sponsered content