গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: ২৩ জুলাই ২০২৫ , ৩:১৮:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পাকুড়িয়া শরীফ বসুনিয়াপাড়ায় পৈত্রিক জমিতে ঘর সংস্কার করতে গিয়ে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন মোঃ ফরিদুল হক (৬৮) নামের এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় তিনি গঙ্গাচড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ফরিদুল হক দীর্ঘদিন পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস করছিলেন। এই অনুপস্থিতির সুযোগে স্থানীয় কিছু ভূমি লোভী ব্যক্তি ভুয়া আরএস রেকর্ডের মাধ্যমে তার পৈত্রিক জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি তারা হুমকি ও শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে জমি দখলে মরিয়া হয়ে ওঠে।
গত ১৭ জুলাই দুপুরে নিজ বাড়ি সংস্কারের সময় আটজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে লাঠিসোটা নিয়ে জমিতে হাজির হয়ে জায়গা ছেড়ে দিতে বলেন। প্রতিবাদ করায় তারা গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একজন নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভয় দেখিয়ে বলেন, “বাড়াবাড়ি করলে জেলে পাঠাবো, মামলা দিয়ে হয়রানি করবো।”
স্থানীয়রা চিৎকার শুনে এসে তাকে রক্ষা করেন। ফরিদুল অভিযোগে উল্লেখ করেন, হামলাকারীরা প্রকাশ্যেই বলেছে, “এই জমি যেকোনো সময় দখল করবো। বাধা দিলে মারবো, মামলা দেবো, সুযোগ পেলে খুন করে লাশ গুম করবো।”
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জিয়ারুল হক বলেন, “শুনে ছুটে এসে দেখি মোফাজ্জলের নাতিপুতিরা ঘর তুলতে বাধা দিচ্ছে। সিফাত নামে একজন পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে হুমকি দিচ্ছে।”
রাশেদা নামের আরেকজন বলেন, “এটা ফরিদুলদের বাপ-দাদার সম্পত্তি। উপায় না পেয়ে এখন কুমিল্লা কামেও গেছে।”
আফসার আলী বলেন, “দেখি আসি ফরিদুল ১৭-১৮ বছর ধরে বাড়ি করছে। এখন শোনা যায় ওর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।”
প্রতিবেশী হাফিজুল বলেন, “ফরিদের ভাগের জমি সে ঘর তুলতেছিল। হঠাৎ মোফার নাতি সিফাত পুলিশ পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখায়।”
অন্যদিকে মোফার পরিবারের কেউ কেউ দাবি করছেন, জমির রেকর্ডে ভুল হয়েছে এবং জমিটি তারা কিনে নিয়েছেন।
ফরিদুল হক জানান, জমি-সংক্রান্ত একাধিক মামলা গঙ্গাচড়া সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন। তিনি মামলার কাগজপত্র ও ডিক্রির কপি থানায় জমা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গ্রামবাসীরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে করে বড় কোনো সংঘর্ষ বা প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে।














