শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

বাজেট বৈষম্য নিরসন ও সম্পূরক বৃত্তির দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ জবি ছাত্রশক্তির

  মো. সাদমান সাকিব দিশান, জবি প্রতিনিধি: ১৭ জুন ২০২৬ , ১:২০:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দীর্ঘদিনের বাজেট বৈষম্য নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক বৃত্তি চালুর দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তি, জবি শাখার নেতাকর্মীরা।

বুধবার (১৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা এ দাবিগুলো তুলে ধরেন।

এ সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নীরব প্রতিবাদ জানান। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “বেগম জিয়ার হাতে গড়া দুই দশকের ইতিহাস, বাজেটের পাতায় বৈষম্য আর জবিয়ানদের দীর্ঘশ্বাস” এবং “রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার, সম্পূরক বৃত্তি জবিয়ানদের অধিকার”।

নেতাকর্মীরা দাবি করেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে বাজেট বরাদ্দে বৈষম্যের শিকার। পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন সংকট নিরসন এবং আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির অধিকাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধাবঞ্চিত হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উচ্চ খরচে মেস বা ভাড়া বাসায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ তাদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা বা সম্পূরক বৃত্তির কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ করেন তারা।

জবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাজেট বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। আমরা চাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায্য বরাদ্দ নিশ্চিত করুক।”

সংগঠনের সদস্য সচিব শাহিন আলম বলেন, “সম্পূরক বৃত্তি শিক্ষার্থীদের অধিকার। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সেসব সুবিধা পাওয়ার দাবিদার। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজন হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।”

শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বাজেট ও আবাসনসংক্রান্ত সংকট নিরসনে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

আরও খবর

Sponsered content