বাকৃবি সংবাদদাতা: ১৫ জুন ২০২৬ , ৮:৩০:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের মোট ১৭৭ জন শিক্ষার্থীর মাঝে সার্জিক্যাল কিট বক্স বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগ।
সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেটেরিনারি অনুষদ ডিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম, ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মো. শহিদুল হকসহ বিভাগীয় শিক্ষকবৃন্দ ও অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবুর রহমান বলেন, ভেটেরিনারি শিক্ষা একটি বিশেষায়িত মেডিকেল পেশা, যা দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি ভেটেরিনারি শিক্ষাকে পৃথক মেডিকেল পেশা হিসেবে সরকারি স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, প্রাণী চিকিৎসা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি ক্ষেত্র। এ ক্ষেত্রে সফল হতে সার্জারি ও মেডিসিনে দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে বাস্তব ক্ষেত্রে কাজে লাগিয়ে দক্ষ ভেটেরিনারি চিকিৎসক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, কিট-বক্স ও সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি কেবল সংগ্রহে রাখলেই হবে না, বাস্তব চিকিৎসা কার্যক্রমে এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিভিন্ন কেসে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দক্ষ সার্জন হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন ভেটেরিনারি গ্র্যাজুয়েটকে ২২টি বিভাগের কোর্স সম্পন্ন করতে হয়, যা তাকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্রে কাজের উপযোগী করে তোলে। সিমাগো র্যাংকিংয়ে বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদ বাংলাদেশে প্রথম এবং এশিয়ায় ৯২তম স্থান অর্জন করেছে। এছাড়া সার্জারিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি কিট-বক্সের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষ চিকিৎসক ও সার্জন হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া জিএস প্যাক ও কিট-বক্সের যন্ত্রপাতির মান আগের তুলনায় উন্নত করা হয়েছে এবং নতুন কিছু যন্ত্র সংযোজন করা হয়েছে, যা অধিকাংশ সার্জিক্যাল কার্যক্রম সম্পাদনে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, ১৯৮৪ সালে ৪৫০ টাকা দিয়ে শুরু হওয়া কিট-বক্সের বাজেট বর্তমানে মাত্র ৫ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কিট-বক্সের যথাযথ ব্যবহার করে দক্ষতা অর্জন ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।




















