ভুবন কুমার শীল, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১১:৫৯:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর ও সঙ্কোষ নদীর অববাহিকায় জেগে ওঠা চরাঞ্চল এখন বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠে রূপ নিয়েছে। বন্যার পানিতে জমে ওঠা পলিমাটিতে এ বছর ডাল চাষের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় চরজুড়ে মাসকলাই, খেসারী, মসুর, সুলটিসহ বিভিন্ন জাতের ডাল চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের আয়নালের ঘাটপাড়, ফান্দের চর ও কচাকাটার শৌলমারী এলাকায় বালুময় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দেখা গেছে মাসকলাইয়ের সবুজ সমারোহ। দিগন্তজোড়া এই সবুজ আল্পনায় প্রকৃতি পেয়েছে নতুন রূপ। এই দৃশ্য উপভোগ করতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন ভিড় করছেন, অনেকেই কৃষিজমির এই গ্রামীণ সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করে স্মৃতিতে ধরে রাখছেন।
চর এলাকার কৃষকরা জানান, প্রতি বছর বন্যার পর এসব জমিতে পলি জমে। পলিযুক্ত এই বেলে দো-আঁশ মাটিতে ধানসহ অনেক ফসল ভালো না হলেও মাসকলাইসহ ডাল জাতীয় ফসল ভালো হয়। অল্প পরিচর্যা ও কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ায় তারা ডাল চাষে ঝুঁকেছেন।
পূর্ব সাপখাওয়া এলাকার কৃষক মাহাতব আলী ফটকু জানান, তিনি দুধকুমার নদের অববাহিকায় ফান্দের চরে প্রায় ৩ বিঘা জমিতে মাসকলাই চাষ করেছেন। হালচাষ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ হাজার টাকা। ফলন পেয়েছেন ৮ মণের বেশি। মণপ্রতি ৪ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করে খরচ বাদেই দ্বিগুণ লাভ করেছেন তিনি।
একই চরে কৃষক হারুন উর রশিদ দেড় বিঘা, বাবু মিয়া ২ বিঘা এবং রিয়াজুল ইসলাম ইদুল প্রায় ১ বিঘা জমিতে মাসকলাই চাষ করেছেন। তবে রিয়াজুল ইসলাম ইদুল জানান, সঠিক সেচব্যবস্থা না থাকায় কিছু অংশে পোকার আক্রমণে ক্ষতি হয়েছে। তবুও মোটের ওপর লাভজনক ফলনের আশা করছেন তিনি।
কচাকাটার শৌলমারী চরের কৃষক শামসুল আলম বলেন, বন্যার পর তার প্রায় দুই বিঘা জমি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। পলি জমে ধান চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এবং ধান রোপণের সময় না থাকায় তিনি মাসকলাই চাষ করেন। খরচ খুবই কম হয়েছে এবং ফলন ভালো। ন্যায্য দাম পেলে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি। মাসকলাই তোলার পর ওই জমিতে বোরো ধান আবাদ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি অফিস-এর কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলে মাসকলাই চাষ হয়েছে ২৩৫ হেক্টর জমিতে। এছাড়া মুগডাল ৫২ হেক্টর, মসুর ডাল ১৯৭ হেক্টর, খেসারী ১৭৫ হেক্টর, ছোলা ৬ হেক্টর, মটর ৩ হেক্টর এবং অরহর ডাল চাষ হয়েছে ১০ হেক্টর জমিতে।
তিনি আরও জানান, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় নদীবেষ্টিত চর এলাকার ৪২৫ জন কৃষককে ডালজাতীয় বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। চরাঞ্চলের বেলে দো-আঁশ মাটি ডাল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় এবং উৎপাদন খরচের তুলনায় দ্বিগুণ লাভ পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। ডাল শস্যের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।




















