তানভীর সরদার, স্টাফ রিপোর্টার: ১৭ জুন ২০২৬ , ৬:০৮:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ
ধর্ষণ ও মাদক কারবারের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের পক্ষে তদবিরকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেছেন, মাদক ও ধর্ষণের বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ এবং কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে এসব অপরাধীকে রক্ষা করার সুযোগ পাবে না।
বুধবার (১৭ জুন) ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “ধর্ষক বা মাদক ব্যবসায়ীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ হতে পারে না। তাদের পক্ষে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তি তদবির করলে তাকেও আইনের মুখোমুখি হতে হবে। সে নিজের দলের হলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি বলেন, সমাজ থেকে মাদক ও নারী-শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ নির্মূলে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও পাচার রোধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবতা যাচাই করা হচ্ছে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরকারি সেবার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনভোগান্তি কমানো এবং নাগরিকদের দ্রুত ও সহজে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এক ছাতার নিচে বিভিন্ন সরকারি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী বলেন, মাদক কারবারিরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। তাদের দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর ও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় তিনি কালীগঞ্জের আলোচিত শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আইনমন্ত্রী ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় নবনির্মিত একটি আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধন করেন। পরে শৈলকুপা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন।




















