ফ্যাশন

বাঘায় ভুয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’ গেজেট নিয়ে বিতর্ক, ক্ষোভে ফুঁসছেন প্রকৃত আন্দোলনকারীরা

  বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি : ২৭ আগস্ট ২০২৫ , ১১:২৩:০১ প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার পতনের আন্দোলনে নয়, পারিবারিক বিরোধে আহত হলেও রাজশাহীর বাঘার যুবক জাহিদ হাসান (২২) ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়েছেন। এমন ঘটনায় প্রকৃত আন্দোলনকারীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জাহিদ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে। সূত্র জানায়, ঢাকায় চাকরি করতেন তিনি। গত বছরের ১ আগস্ট চাকরি ছেড়ে গ্রামে ফেরার পর চলমান আন্দোলনের আড়ালে পূর্ব শত্রুতার কারণে প্রতিপক্ষ শিক্ষক মুস্তাক আহমেদকে হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন। পরে ৫ আগস্ট জমি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পাল্টা হামলার শিকার হয়ে আহত হন জাহিদ।

এ ঘটনায় তার বাবা রবিউল ইসলাম বাঘা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ রঞ্জুর মধ্যস্থতায় ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসা হয়। অথচ সেই চিকিৎসার কাগজপত্র ব্যবহার করে জাহিদ নিজেকে আন্দোলনে আহত হিসেবে উপস্থাপন করে ‘জুলাই যোদ্ধা’ তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। তার গেজেট নম্বর ৮৩৪, মেডিকেল কেস নাম্বার ৫৯৯০।

ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য

বাদী রবিউল ইসলাম প্রথমে দ্বিধায় পড়লেও পরে স্বীকার করেন, তার ছেলে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হাতে মার খেয়েছিল, তবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত নন।
জাহিদের সঙ্গে কথা বললে তিনি আন্দোলনে অংশ নেওয়ার দাবি করলেও কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।

অপরদিকে প্রতিপক্ষ নয়ন জানান, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের শত্রুতার জেরেই সংঘর্ষ হয়েছিল। তার দাবি, জাহিদ সাবেক প্রতিমন্ত্রী সাহরিয়ার আলমের ঘনিষ্ঠ নেতা শাহিনুর রহমান পিন্টুর ক্যাডার হিসেবে কাজ করত, আর এখন ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করছে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

চন্ডিপুর গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ কর্মীরা এলাকায় ছিল না। সেদিন তারা কাউকে মারতে পারে না। প্রতারণার মাধ্যমে আন্দোলনকারীর স্বীকৃতি পেলে এটা প্রকৃত যোদ্ধাদের সঙ্গে অবিচার।”

কৃষক রহিম বলেন, “যারা সত্যিকারের আন্দোলন করেছে, তারা এখনও গেজেট পায়নি। অথচ ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে অনেকে সুবিধা নিচ্ছে।”

এক শিক্ষক বলেন, “জুলাই আন্দোলন একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। ভুয়া প্রমাণে কেউ গেজেট পেলে আন্দোলনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।”

প্রশাসনের অবস্থান

রাজশাহীর জেলা প্রশাসনের এক সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “এমন অভিযোগের তদন্ত করা হয়েছে এবং সত্যতা মিলেছে। আমরা রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় গেজেট বাতিল করলে পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রকৃত আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ

তারা বলছেন, “যারা সত্যিকারের আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তারা এখনও স্বীকৃতি পাননি। অথচ ভুয়া পরিচয়ে জাহিদের মতো অনেকে সুবিধা নিচ্ছে। এটি আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে প্রতারণা।”

আরও খবর

Sponsered content