প্রতিনিধি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১০:১৪:৩৮ প্রিন্ট সংস্করণ
ফুটবল ও রাজনীতি আধুনিক বিশ্বে অনেক ক্ষেত্রেই একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। আয়ারল্যান্ড ও ইসরাইলের মধ্যকার উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচটিও গত এক সপ্তাহ ধরে মাঠের বাইরের বিতর্কে উত্তপ্ত ছিল। গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি আয়ারল্যান্ডের সমর্থন এবং ম্যাচ বর্জনের আলোচনা ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত মাঠে নেমে দারুণ জয় পেয়েছে আয়ারল্যান্ড। হাঙ্গেরির দেবরেসেনে ইসরাইলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে তারা।
ম্যাচটি আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়েই শনিবার পর্যন্ত অনিশ্চয়তা ছিল। শেষ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেন। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে তারা। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় আয়ারল্যান্ড।
ম্যাচ শেষে কোচ হেইমির হালগ্রিমসন বলেন, ‘আমার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি ছিল এটি। তবে বিষয়টি আমাকে নিয়ে নয়। বিষয়টি খেলোয়াড়দের নিয়ে। আজ তারা দেখিয়েছে, আয়ারল্যান্ডের হয়ে খেলা তাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তারা মাঠে মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করেছে, একই সঙ্গে গর্বিত আইরিশদের শক্তিও দেখিয়েছে। আশা করি, তারা আইরিশ জনগণের সমর্থন পাবে।’
দেবরেসেনের স্টেডিয়ামের পরিবেশও ছিল অস্বাভাবিক। প্রায় ফাঁকা গ্যালারিতে ম্যাচ হওয়ায় মাঠের প্রতিটি শব্দ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল। ইসরাইলকে সমর্থন করতে প্রায় ১৫০ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের সমর্থকদের একটি ছোট দলও স্টেডিয়ামে ঢুকতে সক্ষম হয়। আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে অতিথি সমর্থকদের জন্য টিকিট বরাদ্দ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
ম্যাচ শুরুর আনুষ্ঠানিকতাতেও ছিল ব্যতিক্রমী দৃশ্য। আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা কালো বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামেন। ইসরাইলের জাতীয় সংগীতের সময় তারা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকেন। দুই দলের খেলোয়াড়েরা ম্যাচের আগে করমর্দনও করেননি, এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে স্মারক পতাকা বিনিময়ও হয়নি।
ম্যাচটি একপর্যায়ে বাতিল হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু দলে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত তাকে ছাড়াই দল সাজান হালগ্রিমসন। জিমি ডানকে তৃতীয় গোলরক্ষকের বিকল্প হিসেবে রাখা হয়। এ ছাড়া ফিন আজাজকে বেঞ্চে বসিয়ে একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন আনেন তিনি। আজাজের মায়ের ইসরাইলি নাগরিকত্ব রয়েছে এবং শনিবারের আলোচনায় তিনি আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
তবে এত আলোচনা ও মানসিক চাপের পর মাঠে নেমে মাত্র ১১ মিনিটেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় আয়ারল্যান্ড।
১৪ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ট্রয় প্যারট। ডান প্রান্ত দিয়ে জেমস আবানকোয়ার দারুণ প্রচেষ্টার পর পাওয়া বলে নিচু শটে ড্যানিয়েল পেরেতজকে পরাস্ত করেন তিনি।
এর মাত্র দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অ্যাডাম ইদাহ। জ্যাক ময়লানের নিখুঁত বাড়ানো বল ধরে শেষ রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের পাশ দিয়ে এগিয়ে গিয়ে শান্তভাবে বল জালে পাঠান তিনি।
২৫ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেন ময়লান নিজেই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মাত্র চার ম্যাচে এটি তাঁর চতুর্থ গোল। বক্সের বাইরে থেকে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে নিচু শটে জালে পাঠান তিনি। গোলের পর কর্নার পতাকার কাছে গিয়ে কালো বাহুবন্ধনী খুলে সেটিতে চুমু খান ময়লান।
বিরতির পর ইসরাইল কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। বদলি খেলোয়াড় দোর পেরেতজের একটি শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক কাওইমহিন কেলেহার।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি অনেকটাই কমে যায়। মাঠে একের পর এক ছোটখাটো সংঘর্ষও দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি। ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আয়ারল্যান্ড।
ইসরাইলের কোচ রান বেন শিমনকে ম্যাচ শেষে তার পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা নাকচ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাপটা ভালোভাবে সামলাতে পারিনি, এটি স্পষ্ট। মানসিকভাবেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি, কৌশলগতভাবেও ব্যর্থ হয়েছি। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই আমাদের আরেকটি ম্যাচ আছে। আবার ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি খুঁজে নিতে হবে।’















