সিলেট প্রতিনিধি: ২৪ জুন ২০২৬ , ৯:২৭:০০ প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেট মহানগরীতে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ছিনতাই এখন নগরবাসীর নিত্যদিনের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে জনমনে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক মাসে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ ছাড়াও সাংবাদিক, পুলিশ সদস্য, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে বন্দরবাজার এলাকায় প্রায় প্রতি ঘণ্টায় একটি করে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এ অবস্থায় ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরাও মাঠে নেমেছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছিনতাই চক্রের মূলহোতা ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এসএমপির মিডিয়া অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, নগরীতে সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো পুলিশের জন্যও বিব্রতকর। কোনোভাবেই অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। মূলহোতাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এরই মধ্যে নগরীর চালিবন্দর এলাকায় এক তরুণীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও স্বর্ণের নাকফুল ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শনিবার (৬ জুন) বিকেলে চালিবন্দর কাষ্টঘর এলাকার প্রবেশমুখে কুলসুমা আক্তার (১৯) নামের এক তরুণীকে ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে একটি মোবাইল ফোন ও স্বর্ণের নাকফুল ছিনিয়ে নেয় তিন ছিনতাইকারী। এ সময় ভুক্তভোগী তরুণী চিৎকার করে তাদের পিছু নেন। পরে সুবহানীঘাট এলাকায় স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় নাকফুলসহ তানিয়া (১৮) নামের এক নারীকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ এয়ারপোর্ট থানার বাদামবাগিচা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঝুমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী গ্রামের নুরুল ইসলাম ও সমলা বেগমের মেয়ে তানিয়া (১৮), বর্তমানে আখালিয়া নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা; এবং বাদামবাগিচা এলাকার বাসিন্দা ঝুমা আক্তার।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর বন্দরবাজার, কিনব্রিজ, জিন্দাবাজার, শাহজালাল মাজার এলাকা, আম্বরখানা, কদমতলী বাস টার্মিনাল, উপশহর, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, তেররতন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রেলস্টেশন ও হুমায়ূন রশিদ চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে।
এসএমপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে নগরীতে ১৯টি চুরি, ৮টি ছিনতাই এবং একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এর আগের মাস অক্টোবরে ১২টি চুরি, ৫টি ছিনতাই ও একটি ডাকাতির ঘটনা রেকর্ড করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ছিনতাই ও চুরির ঘটনা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















