নেত্রকোনা প্রতিনিধি : ৭ মে ২০২৬ , ১০:৪৪:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ডেপুটি স্পিকারের নিজ থানায় চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ ও দুই যুবক আটকের ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) সঙ্গে চোরাকারবারির ঘুষ নিয়ে দর-কষাকষির দুটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার রাত ১০টার পর অডিও দুটি ফাঁস হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে রাতেই অভিযুক্ত এসআই মো. আবু হানিফকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, “ছড়িয়ে পড়া অডিও আমার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা বডি স্প্রে, শ্যাম্পু, অলিভ অয়েলসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করে। এ সময় পিকআপের চালক নাজিরপুরের শিংপুর এলাকার মো. নাছিম (২৩) ও তাঁর সহকারী সেইচাহানি গ্রামের মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়। পরে ওই দুই যুবক ও মূল হোতা উপজেলার রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ পাঁচজনের নামে মামলা করা হয়।
বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি অডিওতে এসআই আবু হানিফ ও জসিম উদ্দিনের কথোপকথন শোনা যায়।
৫ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের প্রথম অডিওতে জসিমকে বলতে শোনা যায়, “স্যার, আপনাকে ৮০ হাজার টাকা দেব। আপনি আমাকে মামলা দিবেন না। শুধু দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন।” জবাবে এসআই আবু হানিফ বলেন, “না ভাই, যা বলছি, তার কম হবে না। আপনি ৩ লাখ টাকা দেন।”
পরে জসিম বলেন, “এক লাখ টাকা দিব। ওসি স্যার কিন্তু বিপক্ষে যাবেন না। ওসি স্যার বলছেন, যেহেতু আমাকে জানিয়ে আপনারা করেছেন, দারোগার সাথে কথা বলেন।”
এরপর এসআই আবু হানিফকে বলতে শোনা যায়, “একটা জায়গার কথা বলব, সেখানে আপনি তিন লাখ নিয়ে আসেন। এটা আপনার জন্যই ভালো হবে। এরপর আমরা তো আছিই…”
অন্যদিকে ৩ মিনিট ১২ সেকেন্ডের আরেকটি অডিওতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, “আপনি যা করবেন, তাড়াতাড়ি করেন। আমি এখন ভবানীপুর ব্রিজ পার হচ্ছি… যান, আপনার জন্য আমি ছাড় দিলাম, আড়াই নিয়ে আসেন।”
তখন জসিম বলেন, “ভাই, আপনি তো ছাড় দিছেন, আরেকটু দেন। আমি কষ্ট করে হলেও আপনাকে দুই লাখ টাকা দিচ্ছি। আমারে একটু সময় দেন…”
একপর্যায়ে এসআই আবু হানিফ বলেন, “দেইখেন হোয়াটসঅ্যাপে কথা অন্য ফোনে রেকর্ড করা যায়, এটা করবেন না…”
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফ ও চোরাকারবারি জসিম উদ্দিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, “বিষয়টি পুলিশ সুপার স্যার দেখছেন। এসআই আবু হানিফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। চোরাই পণ্যের মালিক জসিম মিয়াকে আটক করতে অভিযান চলছে।” তবে এসব ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন তিনি।
এদিকে, সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, এসআই আবু হানিফকে প্রত্যাহারের পর কলমাকান্দা থানার ওসি মো. সিদ্দিক হোসেনকেও বদলি করা হয়েছে।




















