মোঃ শাহ্ আলম মন্ডল, দিনাজপুর প্রতিনিধি: ১৮ মে ২০২৬ , ১২:২৬:১১ প্রিন্ট সংস্করণ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। এরই মধ্যে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড়। উপজেলার খানপুর দক্ষিণ শাহাবাজপুর গ্রামের খামারি লুৎফর রহমানের খামারে লালিত প্রায় ১ হাজার ২০০ কেজি ওজনের এই ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘মহারাজা’। গরুটির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা।
দূর থেকে দেখলে যেন ছোটখাটো একটি হাতির মতো মনে হয়। বিশাল দেহ, লম্বা গড়ন ও রাজকীয় চলাফেরার কারণেই স্থানীয়রা আদর করে এর নাম দিয়েছেন ‘মহারাজা’।
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন শুধু এক নজর গরুটিকে দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে বিরামপুরের এই বিশাল আকৃতির ষাঁড়টি দেখছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেশায় ড্রাইভার হলেও গরু পালনের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আগ্রহ ছিল খামারি লুৎফর রহমানের। প্রায় পাঁচ বছর আগে একটি ছোট বাছুর কিনে শখের বসে লালন-পালন শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে নিজের সন্তানের মতো যত্ন, পরিচর্যা ও ভালোবাসায় বড় করে তোলেন ‘মহারাজা’কে। সময়ের সঙ্গে গরুটির আকারও বাড়তে থাকে এবং এখন সেটি এলাকার অন্যতম বড় ষাঁড়ে পরিণত হয়েছে।
খামারি লুৎফর রহমান বলেন,
“মহারাজা শুধু একটা গরু নয়, এটা আমার পরিবারের সদস্যের মতো। পাঁচ বছর ধরে অনেক কষ্ট আর মায়া দিয়ে তাকে বড় করেছি। কখনও ক্ষতিকর কিছু খাওয়াইনি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার ও নিয়মিত পরিচর্যায় এত বড় হয়েছে। এবার কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছি। আশা করছি, ভালো দাম পাবো।”
তিনি জানান, মহারাজার দৈনিক খাবারের তালিকায় রয়েছে খড়, ভুট্টা, কাঁচা ঘাস, গমের ভুসি, খৈল, আপেল, কলাসহ ৮ থেকে ১০ ধরনের খাবার। শুধু খাবারের পেছনেই প্রতিদিন খরচ হচ্ছে প্রায় দুই হাজার টাকার বেশি। পাশাপাশি পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল রহমান বলেন,
“এত বড় গরু আমাদের এলাকায় আগে কখনও দেখিনি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ শুধু মহারাজাকে দেখতে আসছে। গরুটি দেখে আমারও গরু পালনের আগ্রহ বেড়ে গেছে।”
আরেক দর্শনার্থী আহাদ বারি বলেন,“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে এখানে এসেছি। কাছে এসে দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। গরুটি খুব শান্ত স্বভাবের এবং দেখতে অসাধারণ।”
বিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপুল কুমার চক্রবর্তী জানান, এবার উপজেলায় ৩৯ হাজারেরও বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া রয়েছে। উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার ছোট-বড় খামার রয়েছে এবং খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “খানপুরের ‘মহারাজা’ বর্তমানে জেলার অন্যতম বড় ষাঁড়। এ ধরনের বিশাল আকৃতির গরু এ উপজেলায় এবারই প্রথম লালন-পালন করা হয়েছে।”
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ‘মহারাজা’কে ঘিরে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। স্থানীয়দের ধারণা, বিরামপুরের কোরবানির পশুর বাজারে এবার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে এই বিশাল ষাঁড়টি।




















