আন্তর্জাতিক

বাহরাইন-কুয়েতে ৮৫ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি ইরানের

  প্রতিনিধি ৮ জুলাই ২০২৬ , ২:১১:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ

হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি, এই অভিযানে ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (ইউএস ফিফথ ফ্লিট) সদর দপ্তর এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

ইরান দাবি কররে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার বিরুদ্ধে এটি ছিল তাদের প্রাথমিক জবাব। তেহরানের অভিযোগ, হরমুজগান ও মাহশাহরের উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা যুদ্ধবিরতি এবং ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যের মতো একটি ‘ঐতিহাসিক ঘটনাকে’ আড়াল করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় কেশম দ্বীপ ছিল প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি, যেখানে অন্তত সাতটি স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী সিরিক শহরের ছয়টি স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া বন্দর আব্বাসে অন্তত ১০টি স্থাপনায় হামলা হয়েছে, যার মধ্যে টেলিযোগাযোগ টাওয়ারও রয়েছে।

এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হামলা বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতা স্মারকের ‘বড় ধরনের লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন।

তার অভিযোগ, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ইরানের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ, ভবিষ্যতে আরও হামলার হুমকি, ইরানের তেল খাতের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত কর্মকাণ্ড সবই ওই সমঝোতা লঙ্ঘনের অংশ।

গালিবাফ বলেন, ‘জবরদস্তি ও চাপ প্রয়োগের যুগ শেষ হয়ে গেছে। এ ধরনের চাপ কোনো ফল বয়ে আনবে না।’

এদিকে আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, দক্ষিণ ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও খবর

Sponsered content