আন্তর্জাতিক

তুরস্কে শিক্ষার্থীদের ছবি-ভিডিও প্রকাশে কড়াকড়ি

  প্রতিনিধি ১১ জুলাই ২০২৬ , ১:২৪:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্কুলে ধারণ করা ছবি, ভিডিও এবং ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তুরস্ক। একই সঙ্গে আগে প্রকাশিত শিক্ষার্থীদের সব ছবি ও ভিডিও দ্রুত সরিয়ে ফেলতে দেশটির সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত ৯ জুলাই দেশের সব স্কুলে পাঠানো ১০ দফা নির্দেশিকায় নতুন এই নীতিমালার কথা জানানো হয়। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট, সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বা অন্য কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে পারবে না।

নিষিদ্ধ তথ্যের তালিকায় রয়েছে শিক্ষার্থীদের নাম, শ্রেণিভিত্তিক তালিকা, শিক্ষার্থী পরিচিতি নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পরীক্ষার ফলাফল, উপস্থিতির তথ্য এবং অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত রেকর্ড। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছবি বা ভিডিও প্রকাশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের আগের সব অনলাইন প্রকাশনা পর্যালোচনা করে প্রকাশ্যে থাকা শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

তবে শিক্ষামূলক প্রয়োজনে ছবি বা ভিডিও ধারণ কিংবা প্রকাশের প্রয়োজন হলে আগে থেকেই এর উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে হবে। এছাড়া কোথায় প্রকাশ করা হবে, কত দিন সংরক্ষণ করা হবে এবং কারা তা দেখতে পারবেন এসব বিষয়ও লিখিতভাবে নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তুরস্ক সরকার বলছে, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।

তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ করে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। অনেকেই ‘সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার চেষ্টা করায় বিষয়টি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে।

গত কয়েক বছরে তুরস্কের বিভিন্ন স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ভিডিও লাখ লাখবার দেখা হলেও শিক্ষার্থীদের সম্মতি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং শিশু অধিকার নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

শিক্ষাবিদ ও শিশু অধিকারকর্মীদের মতে, শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। বিশ্বজুড়ে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় তুরস্কের এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও খবর

Sponsered content