প্রতিনিধি ১২ জুলাই ২০২৬ , ১:৩৯:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
অধিকৃত পশ্চিম তীরে সফরকালে মার্কিন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যরো খান্না ও তার সফরসঙ্গীদের সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা (সেটলাররা) অস্ত্রের মুখে আটকে রেখেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষ নিয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ক্যালিফোর্নিয়ার এই প্রগতিশীল আইনপ্রণেতা বলেন, ‘আমার ফিলিস্তিন সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এম৪ রাইফেলধারী ইসরায়েলি সেটলাররা আমাকে এবং অন্য মার্কিন নাগরিকদের আটকে রেখেছিল।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ঘটনাস্থলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পৌঁছানোর পর তারা ফিলিস্তিনি বা মার্কিনদের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো সেটলারদের পক্ষ নেয় এবং আমাদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখে। তারা এক মস্ত বড় ভুল করেছে।’
ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম তীরের খিরবেত জানুতা গ্রামে। গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার শিকার বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, উগ্র সেটলাররা গ্রামের একমাত্র বিদ্যালয়ে আগুন দিয়েছে, বাড়িঘর লুট করেছে, বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং পানির ট্যাংক, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল ও কৃষিজমি ধ্বংস করে এলাকাটিকে প্রায় বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে।
পরে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রো খান্না জানান, ‘আমরা এমন একটি গ্রাম পরিদর্শন করছিলাম, যেখানে সেটলাররা স্কুল ধ্বংস করেছে এবং পুরো গ্রামটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। আমরা শুধু পরিস্থিতি দেখছিলাম। তখনই কিছু সশস্ত্র ব্যক্তি আমেরিকান তৈরি এম৪ রাইফেল নিয়ে এসে আমাদের আটকে দেয়। তারা রাস্তা অবরোধ করে এবং পরে আইডিএফকে ডাকে। কিন্তু আইডিএফ মার্কিন নাগরিকদের পরিবর্তে সেটলারদের পক্ষেই অবস্থান নেয়।’
রো খান্নার সফরসঙ্গী ক্যামেরন ক্যাসকি জানান, সেটলাররা প্রতিনিধি দলটিকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রেখেছিল। এ সময় তারা বারবার জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চেয়েছিলেন। পরে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে হস্তক্ষেপ করলে তারা মুক্তি পান।
তবে এ ঘটনায় ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানাননি।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে খিরবেত জানুতার কাছে কিছু সেটলার কয়েকটি যানবাহনের পথরোধ করেছিল। তবে তাদের দাবি, সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরায়েলকে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এই সহায়তার আওতায় এম৪ রাইফেলের মতো বিভিন্ন অস্ত্রও রয়েছে, যেগুলো ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট সেটলারদের বিরুদ্ধে।
এদিকে গাজা যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নীতিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি অনুকূল মনোভাব ছিল ৫৯ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের মে মাসে নেমে এসেছে ২২ শতাংশে।















