প্রতিনিধি ৭ নভেম্বর ২০২৬ , ৪:৪২:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ
ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো পক্ষই পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের মধ্যে সরকার গঠনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
আগামী রোববার সরকার গঠনের দায়িত্ব কার হাতে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ শেষে ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটের ৬৭ সদস্য আইজেনকোটকে সরকার গঠনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। অপরদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৪৬ আইনপ্রণেতা। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেলেও সরকার গঠনের পথ আইজেনকোটের জন্য সহজ নয়।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অপরদিকে আইজেনকোটের পক্ষে থাকা চারটি ইহুদিপ্রধান দল পেয়েছে ৪৮টি আসন। এ ছাড়া ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলো পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন।
আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে আইজেনকোটের পক্ষে ৬৭ সদস্যের সমর্থন থাকলেও তিনি তাদের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি নন। তবে আরব দলগুলো শর্তসাপেক্ষে তার সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় রাখতে হলে বিরোধী কোনো দলের সমর্থন আদায় করতে হবে।
আইজেনকোটের সরকার গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে উগ্র-অর্থোডক্স ইহুদিদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও শাস পার্টি। সামরিক বাহিনীতে অতি-ধর্মপ্রাণ ইহুদিদের বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রশ্নে নেতানিয়াহুর জোটের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম তার পক্ষে সমর্থন দেয়নি। তবে শাস পার্টি নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যাবে। তিনি ব্যর্থ হলে অন্য একজনকে একই প্রক্রিয়ায় সুযোগ দেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত কেউ সরকার গঠন করতে না পারলে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। ততদিন নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ইসরায়েলবিষয়ক বিশ্লেষক নেহরু জামহুরের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়াই সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি। এমন পরিস্থিতি নেতানিয়াহুর জন্যও সুবিধাজনক হতে পারে।





















