আন্তর্জাতিক ডেস্ক ২৬ এপ্রিল ২০২৫ , ২:৩৩:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ
পেহেলগাম হামলার পর পাকিস্তানের দিকে অভিযোগ তুলে সিন্ধু নদের পানি বন্টন চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। এর জবাবে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, নয়াদিল্লির একতরফা পদক্ষেপ দেশীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেবে।
শুক্রবার জিও নিউজের অনুষ্ঠান ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’-এ বক্তৃতাকালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের সময়ও, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি… ভারত এখন যা করছে তা নজিরবিহীন এবং তারা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আগ্রহী নয় বরং রাজনৈতিক লাভের জন্য এটিকে কাজে লাগাচ্ছে।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় অবৈধভাবে অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে মারাত্মক বন্দুক হামলার পর পানিচুক্তি স্থগিত করে। এর আগে মঙ্গলবার পেহেলগাম এলাকার এক মনোরম স্থানে ২৬ জন পর্যটককে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে একজন নেপালি নাগরিকও ছিলেন।
হামলার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একতরফা এবং তুচ্ছ পদক্ষেপ নেয়, পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করে, পাকিস্তানের সাথে প্রধান স্থল সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেয়, কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করে এবং ভিসা প্রত্যাহার করে।
এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান ভারতীয় কূটনীতিক এবং সামরিক উপদেষ্টাদের বহিষ্কারের নির্দেশ দেয়, শিখ তীর্থযাত্রীদের বাদে ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা বাতিল করে- এবং প্রধান সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেয়।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে বিলাওয়াল উল্লেখ করেন, সিন্ধু পানিচুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত করার ক্ষমতা ভারতের নেই। তিনি বলেন, চুক্তিটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং বিশ্বব্যাংক সহ অন্যান্য স্বাক্ষরকারী দেশগুলোও এতে জড়িত।
বিলাওয়াল আরও বলেন, যখন সমগ্র বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকির মুখে, তখন জলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা কেবল দায়িত্বজ্ঞানহীনই নয় বরং অনৈতিক।
তিনি আরও বলেন, পানি নিয়ে যুদ্ধ হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সংঘাতের চক্রে আটকা পড়বে। কোনও দেশ আন্তর্জাতিকভাবে পবিত্র জলবণ্টন চুক্তিকে ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে পদক্ষেপগুলোকে সমর্থন করবে না।
পিপিপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, সময় প্রমাণ করেছে ভারত শান্তিতে আগ্রহী নয়, বরং আইআইওজেকে-র আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মর্যাদাকে পরিকল্পিতভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
তিনি বলেন, যখন ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছিল, তখন এটি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ ছিল না – বরং এটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর একটি দমন-পীড়ন ছিল।
বিলাওয়াল বলেন, ভারত পাকিস্তানকে ক্রমাগত দোষারোপ করে কাশ্মীরে আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে বৈধ প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসবাদের মধ্যে রেখা ঝাপসা করার চেষ্টা করছে। নয়াদিল্লি মনে করে তারা একবার সফল হয়েছে এবং তাই বারবার করতে পারে – কিন্তু বিশ্ব এখন এই কৌশলগুলো বুঝতে পেরেছে।
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাতে বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ হলেও, ভাগাভাগি করা সম্পদের রাজনীতিকরণ বা আন্তর্জাতিক চুক্তি ভঙ্গের ভারতের একতরফা পদক্ষেপকে কেউ সমর্থন করতে প্রস্তুত নয়।
বিতর্কিত খাল প্রকল্প সম্পর্কে বিলাওয়াল বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার একটি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং যেকোনো চূড়ান্ত অনুমোদন সাধারণ স্বার্থ পরিষদের (সিসিআই) মাধ্যমে আসবে।
এমআই








