সারাদেশ

ঢাকা-১৭ আসনের দুটি কেন্দ্রে তারেক রহমানের পরাজয়ের কারণ কী?

  বনানী (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৮:২৯:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনের প্রাথমিক ফলাফলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হলেও কিছু কেন্দ্রে তাঁর ধানের শীষ প্রতীক  দাঁড়িপাল্লা  প্রতীকের কাছে ভোটে পরাজিত হয়েছেন।
৭৬. টিএন্ডটি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র নং-২ (পুরুষ) ও ৭৮. টিএন্ডটি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র নং-৪ (মহিলা) এই দুটিতে পরাজিত হয়েছেন তারেক রহমান। ভোট গণনার বিবরণীতে জানা যায়, ৭৬ নাম্বার কেন্দ্রে তারেক রহমান পেয়েছেন ৫৯১ ভোট। স. ম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৭১৮ ভোট। ৭৮ নাম্বার কেন্দ্রে তারেক রহমান পেয়েছেন ৪৫৯ ভোট। স. ম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৫৫৯ ভোট।
ঢাকা ১৭ আসনের দুটি কেন্দ্রে যারা তারেক রহমানের পক্ষে প্রচারণায় মূল দায়িত্বে ছিলেন শুধুমাত্র তাদের গাফিলতির কারণে এই দুই কেন্দ্রে ধানের শীষ হেরেছে। তারা সীমাহীন খামখেয়ালি করেছে। যেসব সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা তাদের বিভিন্ন কাজে টাকা দিয়েছেন সেগুলো লুটপাট করে খেয়েছে। কর্মীদের দিতে বিভিন্ন উপহার দেওয়া হলেও সেগুলো কর্মীদের হাতে তুলে দেয়নি। নিজেদের ব্যক্তিগত পছন্দের লোকদের বিতরণ করেছে। এসব অভিযোগ করেছেন বনানী থানা বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী।
অভিযোগ এসেছে, এই দুই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত লিডাররা প্রচারণার কাজে চরম অবহেলা করেছেন। তাঁরা প্রচারণার কাজে যাদের সঙ্গে রেখেছেন সবাই ছিল অন্য এলাকার ভাড়াটে লোক। যারা কেউ ঢাকা ১৭ এর ভোটার ছিল না। এছাড়া অর্ধেকের বেশি লোক ছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। আওয়ামী লীগারদের টাকার বিনিময়ে পুনর্বাসন করেছেন, সঙ্গে রেখেছেন। তাদের টিমে ছিলনা কোনো এলাকার ভোটার ও স্থানীয় বিএনপি বা অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী। তাঁরা নিজ দলের নেতাকর্মীদের চরম অপমান করছে/দায়িত্ব দেয়নি। তাদের আচরণে কষ্ট পেয়ে মানে অভিমানে আল মামুন নামে এক কর্মী পদত্যাগ করেছিলেন নির্বাচনের দুইদিন আগে।
এছাড়া আরও অভিযোগ রয়েছে, এই টিমের লিডাররা যেসকল লোকদের নিয়ে কাজ করেছে তাদের সম্মানী ঠিক মতো দেয়নি। মেরে খেয়েছে। মূলত এসব কারণে দুটি কেন্দ্রে তারেক রহমানের হার বলে দাবি করেছে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। তাঁরা আরও দাবি করেন, এর জন্য সম্পূর্ণ ভাবে চারজন ব্যাক্তি দায়ী। তাঁরা হলেন- কেন্দ্র নং ৭৬ এর টিম লিডার ২০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অলি উল্লাহ সায়েম ও বনানী থানা বিএনপির সদস্য হাছান আল মামুন অপু। ৭৮ নাম্বার কেন্দ্রের টিম লিডার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও বনানী থানার অন্তর্গত ‘জ’ ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস।
তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

আরও খবর

Sponsered content